আল্লাহতায়ালার এমন কিছু সত্কর্মপরায়ণশীল বন্ধু বা ওলি-আউলিয়া রয়েছেন, যাদের তিনি কিছু দিতে পারলে খুশি হন। আল্লাহতায়ালা তার প্রিয় মাহবুব ওলি-আউলিয়াগণের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য সব সময় রহমতের পাত্র হাতে নিয়ে বসে থাকেন। আল কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহর অনুগ্রহ সত্কর্মপরায়ণদের নিকটবর্তী।’ (সুরা আরাফ :৬৫)। যেহেতু আল্লাহর রহমত-বরকত তাদের নিকটবর্তী, তাই তাদের সঙ্গী হওয়া জরুরি। কারণ মিষ্টি যে স্থানে থাকে, সেখানেই পিঁপড়েরা জমায়েত হয়। এজন্য আল্লাহতায়ালা তার বান্দাদের সত্কর্মশীল সত্যবাদীদের সঙ্গী হওয়ার জন্য আদেশ দিয়েছেন। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘হে ইমানদারগণ, আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সঙ্গী হও।’ (সুরা তাওবাহ:১১৯)। দুনিয়ায় ওলি-আউলিয়াগণের সঙ্গী হতে পারলে পরকালে নাজাত লাভের আশা করা যাবে। আর যারা ওলি-আউলিয়ার সঙ্গী হবে না, তাদের উভয় জাহানে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। যারা অতীতে সত্কর্মপরায়ণশীল তথা ওলি-আউলিয়ার সঙ্গী হননি, তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত; কিন্তু তারা নয়, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সত্কর্ম করে এবং পরস্পরকে তাগিদ করে সত্যের এবং তাগিদ করে সবরের।’ (সুরা আসর:২-৩)। যারা আল্লাহর জিকিরে মশগুল থাকে, তারাই ওলি-আউলিয়া। তারা হেদায়াতপ্রাপ্ত। আল্লাহতায়ালা তাদের সঙ্গে সম্পর্কে আবদ্ধ থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আপনি নিজেকে তাদের সঙ্গে আবদ্ধ রাখুন, যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের প্রভুর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে তাকে ডাকে এবং আপনি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য কামনা করে তাদের থেকে নিজের দৃষ্টি ফিরিয়ে নেবেন না।’ (সুরা কাহাফ :২৮)। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় হজরত কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, ‘যারা সকাল ও সন্ধ্যায় আহ্বান করে তাদের প্রতিপালককে’ বলে এখানে বোঝানো হয়েছে আসহাবে সুফফাকে। তারা সর্বহারা ছিলেন। রসুল (স) তাদের আশ্রয় দিয়েছিলেন মসজিদের বারান্দার এক কোণে। তাদের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে ৭০০ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। ঐ সব নিঃস্ব সাহাবি সারাক্ষণ জিকির-আসকারের মাধ্যমে সময় কাটাতেন। এক ওয়াক্তের নামাজ শেষে প্রতীক্ষা করতেন পরবর্তী ওয়াক্তের নামাজের। (তাফসিরে মাজহারি :৭/২৫১)। হাশরের মাঠে মানুষ তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়বে। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘এবং তোমরা বিভক্ত হইয়া পড়িবে তিন শ্রেণিতে। ডান দিকের দল; কত ভাগ্যবান তারা। এবং যারা বাম দিকে, কত হতভাগ্য তারা। আর অগ্রবর্তীগণ তো অগ্রবর্তীই। তারাই নৈকট্যপ্রাপ্ত। নিয়ামতপূর্ণ উদ্যানে।’ (সুরা ওয়াক্বিয়াহ:৭-১২)। ইসলাম, ইবাদত ও আল্লাহর নৈকট্যভাজনতার দিকে ওলি-আউলিয়াগণই অগ্রগামী।
lলেখক :ইসলামি চিন্তাবিদ ও গবেষক