সৌদি ও আমিরাতে অস্ত্র বিক্রি স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রের

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। এসব অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে সৌদির কাছে ক্ষেপণাস্ত্র ও আমিরাতের কাছে এফ-থার্টি ভাইভ ফাইটার জেট বিক্রি। প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাইডেনের অভিষেকের এক সপ্তাহ পর তার প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিল। বুধবার প্রথম সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নতুন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন। তিনি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক পরমাণু চুক্তিতে আগে ইরানকেই ফিরতে হবে। ইসরাইলের সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র সবকিছু করবে বলেও জানান ব্লিংকেন।

বিশ্বে মার্কিন কূটনীতিতে পরিবর্তনের অঙ্গীকার করে ব্লিংকেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবার জলবায়ু পরিবর্তন এবং গণতন্ত্রের ক্ষতিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে নেতৃত্ব দেবে। ব্লিংকেন বলেন, পুরো বিশ্ব এখন আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে যে, আমরা আবার যুক্তরাষ্ট্রকে নেতৃত্বের শীর্ষে আনতে পারি কিনা। আমরা ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারি কিনা, আমাদের মিত্র ও অংশীদারদের সঙ্গে সঠিক কূটনীতিকে কাজে লাগাতে পারছি না, এগুলো পর্যবেক্ষণ করছে বিশ্ব। ব্লিংকেন ইরানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরমাণু চুক্তির বিষয়ে বলেন, চুক্তিতে ফিরতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র। তবে এজন্য ইরানকে চুক্তির সব নীতি আগে মেনে চলতে হবে। চাপ প্রয়োগ করে যুক্তরাষ্ট্রকে ফেরানো যাবে না বলে জানান নতুন এ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ওয়াল স্ট্রি জার্নালের বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানিয়েছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি ও আমিরাতের সঙ্গে যে অস্ত্র বিক্রির চুক্তি করেছিলেন তা যাচাই করে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন প্রশাসন সাধারণত এ ধরনের চুক্তি যাচাই করে থাকে বলে জানিয়েছেন অ্যান্টনি ব্লিংকেন। ব্লিংকেন বলেন, ‘আমাদের কৌশলগত লক্ষ্য ও পররাষ্ট্র নীতিকে প্রসারিত হচ্ছে কি-না, তা নিশ্চিত হতে এই যাচাই। এ মুহূর্তে আমরা এটাই করছি। ওয়াশিংটনের সঙ্গে রিয়াদের সম্পর্ক পুনর্নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বাইডেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ট্রাম্পের নীতি যাচাই বা পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে অনেক           নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন।

ট্রাম্প তার শাসনামলে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। ইসরাইলকে সমর্থন দেওয়া ও ইরানের বিরুদ্ধের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের উদ্দেশ্যে এ অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন তিনি। ২০১৯ সালে কংগ্রেসের আপত্তি সত্ত্বেও তিনি সৌদি, আমিরাত ও জর্ডানের কাছে ৮০০ কোটি ডলার অস্ত্র বিক্রির উদ্যোগ নেন। গত বছরের ডিসেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন সৌদিতে ২৯ কোটি ডলারের হালকা অস্ত্র বিক্রির অনুমোদনও দিয়ে যায়। গত বছরের নভেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসে জানায়, তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে এফ-থার্টি ফাইভ ফাইটার জেট ও ড্রোনসহ বিভিন্ন উন্নত অস্ত্র বিক্রির জন্য ২ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছে। আমিরাত ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সম্মত হওয়ার পর পরই অস্ত্র বিক্রির এ ঘোষণা আসে।