স্বাধীনতা চাইলেই যুদ্ধ 

স্বাধীনতা চাইলেই যুদ্ধের মুখোমুখি হতে হবে এমন বার্তা দিয়ে তাইওয়ানকে হুমকি দিয়েছে চীন। গত এক সপ্তাহ থেকে তাইওয়ানের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তের আকাশে ঘুরছে চীনের বেশ কিছু যুদ্ধ বিমান। 

কাতার ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরা'র বরাতে জানা যায় বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র উ কিয়ান বলেন, তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। অঞ্চলটির স্বাধীনতার অর্থ হচ্ছে যুদ্ধ। চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে পরিচিত ওই এলাকাকে কখনই অন্য হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব নয়। তাইওয়ানের সামান্য কিছু লোকজন দ্বীপটির স্বাধীনতা চায়। তবে স্বাধীনতাকামীদের আমরা সতর্ক করে দিয়েছি। উসকানি ও বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে চীনের সশস্ত্র বাহিনী ব্যবস্থা নেবে। আগুন নিয়ে যারা খেলবে, তারা নিজেরাই পুড়বে। তাইওয়ানের স্বাধীনতার অর্থ হচ্ছে যুদ্ধ।

আরও পড়ুন: সাত দিনেই ট্রাম্পকে পেছনে ফেললেন বাইডেন

এদিকে দক্ষিণ চীন সাগরে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়েও হুঁশিয়ারি জানিয়েছে বেইজিং। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিত দক্ষিণ চীন সাগরে বিমান ও নৌযান পাঠিয়ে নিজেদের শক্তির প্রদর্শন করছে। যা এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর। উ কিয়ান এর ভাষ্যমতে চীন সরকার এই প্রচেষ্টা আটকানোর জন্য সবরকম চেষ্টা করবে। সেই কারণেই দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য তাইওয়ানের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এরই অঙ্গ হিসেবে ওই এলাকায় তৎপর হয়ে উঠেছে পিপলস লিবারেশন আর্মি। 

চীনের এই হুমকির কড়া জবাব হিসেবে তাইওয়ানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়, চিনের উচিত এই বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া। আর এই নিয়ে চিন্তার সময় তারা যেন দ্বীপরাষ্ট্রের মানুষের আবেগকে কম শক্তিশালী মনে না করে। নিজেদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য যেকোনো লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে তাইওয়ানের নাগরিকরা

আরও পড়ুন: লিবিয়া থেকে রুশ ও তুর্কি সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

চীন-তাইওয়ান বিরোধের সূত্রপাত ১৯২৭ সালে। ওই সময়ে চীনজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে গৃহযুদ্ধ। ১৯৪৯ সালে মাও সেতুংয়ের নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট বিপ্লবীরা জাতীয়তাবাদী সরকারকে উৎখাতের মধ্য দিয়ে এ গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটায়। জাতীয়তাবাদী নেতারা পালিয়ে তাইওয়ান যান। এখনও তারাই তাইওয়ান নিয়ন্ত্রণ করে। প্রাথমিকভাবে ওই সময় যুদ্ধ বন্ধ হয়ে পড়লেও উভয় দেশই নিজেদের চীনের দাবিদার হিসেবে উত্থাপন শুরু করে। 

ইত্তেফাক/এএইচপি