স্বপ্ন যখন বদলে যায়

বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা কাঙ্ক্ষিত বিষয়ে ভর্তি না হতে পেরে হতাশ হয়। শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই মনে করেন, কাঙ্ক্ষিত বিষয়ে পড়াশোনা করলে ভবিষ্যত্ সমৃদ্ধ ও জ্ঞানকে সঠিকভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব। তবে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে পজিশন পেছনে থাকার ফলে পছন্দের বিষয় অধরায় থেকে যায়,পড়তে হয় অন্য বিষয়ে। তাই যথোপযুক্ত বিষয় না পাবার পাশাপাশি অন্য বিষয়ে কেমন লাগছে তা নিয়ে  শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছেন—সজীব বণিক ও আবদুল হাকিম আবির

সোনিয়া আক্তার

ইতিহাস বিভাগ,৩য় বর্ষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রতিটা শিক্ষার্থীর মতো আমারও লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়া। কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি আর নানা প্রতিবন্ধকতা নিয়ে সেটা সম্ভব হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য শিক্ষার্থীর সাথে এমনটা ঘটে, শুধু আমার ক্ষেত্রে নয়। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, এসব নিয়ে হতাশায় কাটে শিক্ষার্থীদের বিশাল একটা সময়। প্রাথমিকভাবে কিছুটা হতাশ থাকলেও এখন সবকিছুর সাথে মানিয়ে নিয়েছি।  বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুর জীবনের হতাশা থেকে অনেক নেতিবাচক চিন্তাও করেছি অনেক।  তবে এখন কিছুটা আশার আলো খুঁজে চাকরির বাজারে বিষয়ের গুরুত্ব নেই বলে।

অর্ণব সিংহ রয়

গণিত বিভাগ, ১৩ম ব্যাচ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

অষ্টম শ্রেণি থেকে কম্পিউটার-ইন্টারনেট বিষয়ে কাজে আমার প্রবল ঝোঁক ছিল। তখন ট্রিপলই, সিভিল, সিএসই, আইসিটি এর এত চাহিদা ছিল না। কিন্তু আমার সিএসই, আইসিটি নিয়েই পড়ার ইচ্ছা ছিল । উচ্চ মাধ্যমিক থাকাকালীন প্রোগ্রামিং এর সঙ্গেও যুক্ত ছিলাম। কোডিংয়েও কাজও করেছি কিন্তু পড়ারশোনার বাড়তি চাপের জন্যে এসব কাজ বন্ধ করে দেই। ভেবেছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যেহেতু এই সম্পর্কিত বিষয়ে পড়ব, তখনই করা যাবে।

এছাড়াও আমার ধারণা আগামী ৩০ বছর পর এই দুনিয়া পুরোপুরি অনলাইন ভিত্তিক হয়ে যাবে। অনেকের অনেক বড় বিশ্ববিদ্যালয় লক্ষ্য  থাকতে পারে কিন্তু আমার লক্ষ্য বরাবরই ছিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। শুধু কুবি নয়, কুবির আইসিটি বিষয়। তবে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও পজিশন পিছনে থাকায় কাঙ্ক্ষিত বিষয় পাইনি, পেয়েছি গণিত। যদিও এটা একটা ভালো বিষয়। তারপরও  ভালোবাসার লাল পাহাড়ের ক্যাম্পাসে স্থান পেয়েছি এটাই পরম সৌভাগ্যে।

হাবিব সুলতানা নিপুণ

পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ, ১৩তম ব্যাচ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ার সময় ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে খুব বেশি খুঁটিনাটি করতাম। তবে বাবা-মার ইচ্ছে ছিল মেডিক্যালে পড়ানোর। অথচ বাবা-মার তাগিদে মেডিক্যালে পরীক্ষা দিয়েও হয়নি। তারপর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েও ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়া অধরাই থেকে যায়। আত্মবিশ্বাস রেখে ভর্তি হতে হয়েছে পদার্থ বিজ্ঞানে। জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার অসংখ্য সুযোগ রয়েছে এ বিষয়ে। ‘প্রকৃতি’ থেকে উদ্ভাবিত ‘প্রকৃতির জ্ঞান’ স্থান এবং সময় মাধ্যমে তার গতি এবং আচরণ, যেমন শক্তি এবং বল হিসেবে সম্পর্কিত ধারণা বরাবর এমনকি মহাবিশ্বের আচরণ বোঝার জন্য সবচেয়ে মৌলিক বৈজ্ঞানিক শাখার মধ্যে এ বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মো. রাকিব মোল্লা

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, ১৩তম ব্যাচ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার আগে বরাবরই ইচ্ছে ছিল ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়ার। ইংরেজি আন্তর্জাতিক মাধ্যম হওয়ায় এর বিষয়ে পড়ানোয় ভবিষ্যতে সুযোগ সুবিধাও বেশি। তাছাড়া ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে আমার ধ্যান-জ্ঞানও ছিল প্রখর। তারপরও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় পজিশন পেছনে থাকায় কাঙ্ক্ষিত বিষয় অধরাই থেকে যায়। ভর্তি হয়েছি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে। যদিও এই বিভাগের ধারণা একেবারেই ক্ষীণ। কিন্ু্ত বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে প্রত্নতত্ত্ব সম্পর্কে জানাটাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আর প্রত্নতত্ত্বের কাজ যেহেতু প্রাচীনকালের মানুষ এবং পরিবেশ ও প্রকৃতির তত্কালীন চিত্র বোঝা এবং তার মাধ্যমে মানুষ এবং পরিবেশ ও প্রকৃতির পরিবর্তনের ধারা ব্যাখ্যার মাধ্যমে ভবিষ্যতের মানুষ এবং পরিবেশের রূপরেখা নির্মাণ করা তাহলে এটাও আমার জন্যে রোমাঞ্চকর হবে। বস্তু ও কাঠামোর বিজ্ঞানসম্মত সংরক্ষণ ও তা জনসমক্ষে উপস্থাপন এর মধ্যেই প্রত্নতাত্ত্বিক চর্চা সীমাবদ্ধ ছিল। তবে বর্তমানে প্রত্নতত্ত্বেব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।