শফিকুর রহমান রয়েল
অপ্রচলিত অর্থনীতির জন্য তুরস্ক বহুল সমালোচিত। অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনায় একক কর্তৃত্ব পরিহার করলে নাকি সার্বিকভাবে দেশটির হালহকিকত এখনকার চেয়ে অনেক ভালো থাকত; এমনকি এটিও বলা হয় যে, ইউরোপের মাঝারি সারির অর্থনীতির দেশগুলো পর্যন্ত তাদের পেছনে অবস্থান করত। এসবই অবশ্য অনুমানের কথা; কিন্তু এবার অনুমানকে সত্য প্রমাণিত করার বেশ ভালো মওকা মিলেছে। পোড় খাওয়া নতুন একটি অর্থনৈতিক নেতৃত্ব তৈরি হওয়ায় অর্থনীতির বিষয়ে অনেকেই নতুনভাবে ভাবতে শুরু করেছে; সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় সবাই নড়েচড়ে বসেছে দিনবদলের অপেক্ষায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা যাবে আলেয়াকেই আলো ভেবে পরিস্থিতিকে বরং জটিল করে তোলা হয়েছে, যদি না প্রেসিডেন্ট এরদোগান ক্ষমতার চরম কেন্দ্রীভূতকরণ থেকে সরে না আসেন। তবে বর্তমানের লক্ষণসমূহ বলছে, অন্তত অর্থনীতির বিষয়ে একক কর্তৃতের চিন্তা বাদ দিয়েছেন। সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপে আপাতত তাই মনে হচ্ছে।
অর্থনীতিতে সমন্বয়ের লক্ষ্যে প্রথমেই বরখাস্ত করা হয় দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মুরাত উইজালকে। এর পরের ঘটনায় অবশ্য তুর্কি জনগণ অনেক বেশি বিস্মিত হয়েছে; বলতে গেলে সবাইকে অবাক করে দিয়েই পদত্যাগপত্র জমা দেন অর্থমন্ত্রী বেরাত আলবেরাক। রিসেপ তাইপ এরদোগান শ্বশুর হয়েও জামাতার অব্যাহতি কার্যকর করতে মোটেই অস্বস্তিতে পড়েননি। পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়ার পরের দিইন মার্কিন ডলারের বিপরীতে টার্কিশ লিরার মান বৃদ্ধি প্রায় ৬ শতাংশ। দুই জনকে সরিয়ে দেওয়ার কারণ হিসেবে অনেকে অনেক কিছু বললেও এটিই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য যে, গত ১২ মাস ধরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উল্লেখ করার মতো কমতে থাকাতে প্রেসিডেন্টের চক্ষুশূল হয়ে যাওয়াতেই এই পরিণতি।
কারণ যা হোক না কেন, নবনিযুক্ত দুজনের দ্বারা ইতিবাচক ফলাফল আসার সম্ভাবনাই বেশি। আলবেরাকের অর্থনীতি দেখভালের পদ্ধতি নিয়ে কঠিন সমালোচনা করতেন আগবাল। এভান ও আগবাল একত্রে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা নিরসনে দায়বদ্ধ থাকবেন। তাদের সামনে প্রথম যে দায়িত্বটি অপেক্ষা করছে, সেটি হলো নামমাত্র সুদের হারকে বাড়িয়ে ইতিবাচক প্রকৃত সুদের হার নির্ণয়ের নীতিনির্ধারণ। তবে সব প্রত্যাশা পূরণ করা হয়তো তাদের পক্ষে সম্ভব হবে না। ২০০৮ সালে নির্বাহী প্রেসিডেন্সিয়াল পদ্ধতি গ্রহণ করেছে তুরস্ক। চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের অনুপস্থিতিতে তুরস্কে অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে স্বাধীনভাবে কাজ করা এবং যথাযথ সিদ্ধান্ত নেওয়া খুবই কঠিন। এমনকি সুদের হারের নীতিবিষয়ক ঘোষণাটাও আসে দেশের কর্ণধারের মুখ থেকে।
—ব্লুমবার্গ অনুসরণে