কুমিল্লার দর্শক আরো ফুটবল ম্যাচ চায়

স্পোর্টস রিপোর্টার

প্রথম বার মোহামেডান আবাহনীর মতো ভালো ম্যাচ আয়োজন করল কুমিল্লা। স্টেডয়ামের অর্ধেকই ভরে গিয়েছিল দর্শক। অনেক পুরোনো ফুটবল দর্শকও মাঠে গিয়েছিলেন খেলা দেখতে। তদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা দেখা গেছে। ফুটবল ম্যাচ হলে দর্শক আসেন খেলা দেখতে। শুধু পুরুষ দর্শকই নয় নারী দর্শকও মাঠে যান খেলা দেখতে। বড় একটা অংশ খেলা দেখতে আসেন। কুমিল্লায় ফুটবল ভেন্যু প্রমাণ করেছে এই অঞ্চলে খেলা হলে দর্শকের জন্য অনেক বড় একটা প্রাপ্তি। কুমিল্লার জেলা ফুটবল কর্মকর্তারাও দারুণ উত্সাহ পান। পুলিশ হতে শুরু করে প্রশাসনের সব স্তর হতে ফুটবলের জন্য সহযোগিতার দুয়ার খোলা পাওয়া যায়।

বৃস্পতিবার প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের ম্যাচের আগেও এই শহরে খেলা হয়েছে। তখনো দর্শক মাঠে গিয়েছিল আনন্দ উদ্দীপনা নিয়ে। এবার মোহামেডান আবাহনীর ম্যাচ ঘিরেও ছিল উত্সব। স্থানীয়রা বলছেন তাদের জন্য ফুটবল হচ্ছে একটা বড় বিনোদনের জায়গা। যানজটের শহর কুমিল্লায় এক ফোটা নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য ফাঁকা স্থান পাওয়া কঠিন। তবে শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে খেলা হলে সাধারণ মানুষ বিকালে মাঠে ভীড় জমাতো। তারা প্রতিদিনই খেলা চায় সেখানে। প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম ভেন্যু এটি। মোহামেডান, বসুন্ধরা কিংস এই মাঠে তাদের হোম ম্যাচগুলো খেলবে। প্রতিসপ্তাহে ম্যাচ থাকবে। কিন্তু সাধারণ দর্শক প্রতিদিন বিকালে একটি করে ম্যাচ চায়। জেলা ফুটবল কর্মকর্তাদের কথা হচ্ছে খেলা হবে বাফুফের ফিকশ্চার অনুসারে। তারাও বলছে প্রতিদিন খেলা হলে ভালো। দর্শক বাড়তি বিনোদন পাবে।

এই মাঠের প্রশংসা করেছেন মোহামেডান এবং আবাহনীর দুই কোচ। মোহামেডানের ইংলিশ কোচ শন লেন এবং আবাহনীর পর্তুগিজ কোচ মারিও লেমস। তাদের চোখে মাঠ খুব ভালো। তার চেয়েও বড় কথা হচ্ছে এখানে দর্শক খুব কাছে বসে খেলা দেখছেন। খেলোয়াড়রা গ্যালারির সমর্থকদের সমর্থনের আওয়াজ পাচ্ছেন। সেটা কানে আসলে খেলোয়াড়রাও ভালো খেলার প্রেরণা পান। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে গ্যালারি হতে মাঠ অনেক দূরে থাকায় খেলোয়াড়দের নৈপুণ্য খুব সহজেই উপভোগ করতে পারেন না। যেটা কুমিল্লার মতো স্টেডিয়ামগুলোতে অনেক কিছুই সহজেই দেখা যায়।

বৃস্পতিবারের ম্যাচে মোহামেডান-আবাহনীর ফুটবলাররা গোল করে দর্শকের কাছে গিয়ে মিশে গেছেন। দর্শকও সাড়া দিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন। এমন উত্সবমুখর পরিবেশ এখন বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে দেখা যায় না। কুমিল্লায় গিয়ে বাফুফে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন জানিয়ে এসেছেন এই মাঠে আন্তর্জাতিক ম্যাচ হতে পারে। বাফুফে সভাপতির কণ্ঠে সুর লাগিয়ে কুমিল্লার দর্শকও দাবি করেছেন তারা দেশি খেলাও দেখতে চান কুমিল্লায়। কুমিল্লায় খেলা হওয়ায় সেখানকার একাধিক আবাসিক হোটেল জমে উঠেছে। ঢাকায় হতে গিয়ে দলগুলোকে হোটেলে উঠতে হচ্ছে বিশ্রামের জন্য। স্বাভাবিকভাবেই অনন্ত ২০-৩০টি রুমের প্রয়োজনও হচ্ছে। সোমবার ৩টায় কুমিল্লায় মোহামেডান ও বসুন্ধরা কিংসের খেলা দেখতে পারবেন দর্শক।