মোহাম্মদ ইলিয়াছ
২০২১ সালের এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত সিলবাসে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এটা নিঃসন্দেহে যুগান্তকারী ও সাহসী পদক্ষেপ এবং সরকার সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। তবে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস ভেবেচিন্তে করা উচিত, যাতে শিক্ষার্থীরা লাভবান হয়।
আমরা জানতে পেরেছি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ৬০ কর্মদিবস পরে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান এবং ৮৪ কর্মদিবস পরে উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে। সেই হিসাব চিন্তা করে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরি করা উচিত। সম্প্রতি এনসিটিবি যে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরি করেছিল তা সংক্ষিপ্ত ছিল না। যে সিলেবাসে শুধু শিক্ষার্থী কেন অভিভাবকসহ সচেতন মহলের আপত্তি ছিল। সন্তুষ্ট হতে পারেননি স্বয়ং মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী। ফলে সিলেবাস ছোট আকারে প্রণয়নের জন্য এনসিটিবি চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেন শিক্ষামন্ত্রী। কী রকম হওয়া উচিত এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের সিলেবাস—এ নিয়ে ভাবিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহল। ছোট সিলেবাসে কী কী অধ্যায় কমবে ও কী কী অধ্যায় থাকবে এবং অধ্যায় কী কী বাদ দিতে হবে তা মাথায় রেখে সিলেবাস প্রণয়ন করা জরুরি।
একজন শিক্ষক ও অভিভাবক হিসেবে আমার মত হচ্ছে, সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে বিষয় কমানো উচিত। ১০টি বিষয় থাকলে পাঁচ-ছটি বিষয়ের ওপর পরীক্ষা নেওয়া। যেমন বিজ্ঞান বিভাগের ক্ষেত্রে বাংলা, ইংরেজি, পদার্থ, রসায়ন, জীব ও গণিত—এই ছয় বিষয়ের ওপর পরীক্ষা নেওয়া যায়। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায়ও অনুরূপ সংখ্যা নির্ধারণ করা যেতে পারে। অন্যদিকে এসএসসির কোন বিষয়ের পাঠ্যসূচিতে অষ্টম শ্রেণির সিলেবাসের সঙ্গে মিল আছে এমন পাঠ্যসূচি ছোট সিলেবাস থেকে বাদ দেওয়া। এখানে বলা যেতে পারে, উচ্চতর গণিতে এসএসসি ও এইচএসসি পাঠ্যসূচিতে অসমতা অধ্যায় আছে। এরকম সদৃশ্য অধ্যায় থাকলে বাদ দেওয়া উচিত হবে। অষ্টম শ্রেণির সঙ্গে এসএসসি এবং এসএসসির সঙ্গে এইচএসসির বিষয়ে এরকম বহু অধ্যায়ের মিল খুঁজে পাওয়া যাবে। অধ্যায়গুলো বাদ দিয়ে ছোট করা যায়। অংশ হিসাবেও সিলেবাস ছোট করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে কোনো বিষয়ের অধ্যায় থেকে ৫০ ভাগ সিলেবাস কমিয়ে ছোট করা যায়। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)সহ এনসিটিবি কারিকুলামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা বিষয়টি ভেবে দেখতে পারেন।
করোনাকালে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সন্দেহ নেই। ২০২০ সালে প্রথম আড়াই মাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান পেয়েছে শিক্ষার্থীরা। এর পর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। কথা আসতে পারে—যারা ২০২১ সালে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা দেবে তারা পাঠ্যবইয়ের বেশিরভাগ অংশ ২০১৯ সালে পড়েছে। এমন যুক্তি আনা উচিত হবে না। করোনায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া হয়নি—এমন যুক্তি বিবেচনায় আনতে হবে। ২০২০ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা বাতিল করে অটোপাসের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে সরকারকে। মহামারি করোনায় ২০২১ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়ালেখা হয়নি, তা আমলে নিতে হবে। অর্ধেক পড়ালেখা হলে অর্ধেক সিলেবাসে পরীক্ষা নিতে হবে এমন যুক্তি খাঁড়া করা অন্যায় হবে না। যাই হোক না কেন, সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণাই বড় কথা। সংক্ষিপ্ত সিলেবাস সহজ ও ছোট আকারের হবে এবং সহজ প্রশ্ন প্রণীত হবে বলে আশা করি।
সহ.অধ্যাপক, আলহাজ্ব মোস্তফিজুর রহমান কলেজ, চট্টগ্রাম