পাবলিক রিলেশনস আর কিছুই নয়, একটি ব্র্যান্ডকে বিশ্বের জনতার কাছে প্রোমোট করা এবং সমাজে সেই ব্র্যান্ডের ‘ইমেজ’-কে রক্ষা করার কাজ। আপনার যোগ্যতা যদি মানসম্পন্ন হয় এবং আপনি মিষ্টি কথায়, আদব-কায়দায় মানুষকে আয়ত্ব করতে পারেন তাহলে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে পিআর প্রফেশন। পি আর (পাবলিক রিলেশনস) কেরিয়ার আপনার পক্ষে আদর্শ হতে পারে। আপনি যদি সৃজনশীল মানুষ হন তাহলে পিআর হয়ে উঠতে পারে আপনার স্বপ্ন জব।
পাবলিক রিলেশন কী : পাবলিক রিলেশনস আর কিছুই নয়, একটি ব্র্যান্ডকে বিশ্বের জনতার কাছে প্রোমোট করা এবং সমাজে সেই ব্র্যান্ডের ‘ইমেজ’-কে রক্ষা করা। পিআর এজেন্টদের কারসাজিতে যেকোনো সংস্থার খ্যাতি মূহূর্তে আকাশ ছুঁতে পারে। এমনই হচ্ছে পিআর-এর ক্ষমতা।
ক্যারিয়ার যেমন : আপনি যদি আত্মবিশ্বাসী হন এবং আপনি যদি নানা ধরনের লোকজনের সঙ্গে মেলামেশা করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, আবার একই সঙ্গে আপনার মধ্যে ক্রিয়েটিভ (সৃজনশীল) এবং প্রবলেম সলভিং ক্ষমতা থাকে তা হলে এর চেয়ে যোগ্য কেরিয়ার খুঁজে পাওয়া মুশকিল। একটি সংস্থা বা সেলেবের ইমেজ বা খ্যাতিকে গড়ে তোলার দায়িত্ব হবে আপনার। আবার একই সঙ্গে তাদের ইমেজকে সবরকম কলঙ্ক বা ‘নেগেটিভ’ পাবলিসিটি থেকে রক্ষা করার দায়িত্বটিও আপনার। এর জন্য আপনাকে নানা খবরের কাগজ, নিউজ চ্যানেল ও বিভিন্ন মিডিয়া হাউজের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে হবে। কাজের পরিধি: সাধারণত পিআর এজেন্টদের দুই ধরনের দায়িত্ব থাকে— ব্র্যান্ড প্রোমোশন এবং ব্র্যান্ড প্রোটেকশন। ব্র্যান্ড প্রোমোশনের ক্ষেত্রে আপনাকে কোনও সংস্থা বা ব্যক্তিবিশেষের ইমেজ গড়ে তুলতে হবে। আমজনতা এবং তোমার ক্লায়েন্টের মধ্যিখানে তুমি হবে মিডলম্যান। কীভাবে জনসাধারণকে তোমার ক্লায়েন্টের প্রতি আরও উত্সাহিত করা যায়, কীভাবে একটি সংস্থা বা সেলেবকে জনতার কাছে একটি রোমাঞ্চকর ব্র্যান্ডে রূপান্তরিত করা যায়, তার দায়িত্ব আপনার। তার জন্য আপনাকে নানারকম মিডিয়া হাউজে বা চ্যানেলের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। তারা আপনার ক্লায়েন্টের ব্যাপারে ভাল-ভাল খবর লেখে, আপনার ক্লায়েন্টের সমালোচনা না করে, সেই দিকে খেয়াল রাখতে হবে। নানা ধরনের প্রেস রিলিজ, কনফারেন্সের মধ্য দিয়ে আপনার ক্লায়েন্ট প্রচারের আলো ছড়য় তার ব্যবস্থা করতে হবে। আপনার ক্লায়েন্টের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের মধ্য দিয়ে তাদের ইমেজকে ‘ম্যানেজ’ করারও দায়িত্ব নিতে হবে। কোনও সেলেবের পিআর-এর দায়িত্ব যদি নিয়ে থাকেন, তাহলে তাকে জনসমক্ষে কীভাবে আরও বেশি ‘সমাজ-সচেতন’ হিসেবে প্রতিপন্ন করা যায়, তার দায়িত্বও আপনার। আবার একইসঙ্গে আপনার ক্লায়েন্টের সুনাম যাতে অক্ষুণ্ন থাকে সে ব্যবস্থাও করতে হবে আপনাকে। কোনো রকম কলঙ্ক, বির্তক থেকে রক্ষা করতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়া, রিভিউ বা রেটিং সাইট বা বিভিন্ন মিডিয়ায় আপনার ক্লায়েন্টের ‘ইমেজ’ নষ্ট না হয়, সে দিকে নজর রাখতে হবে আপনাকেই। কোনো সংস্থা যদি কোনোরকম সংকটের মধ্যে দিয়ে যায়, সেই সংস্থাকে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া থেকে রক্ষা করার দায়িত্বও আপনার।
যোগ্যতা যেমন প্রয়োজন : পিআর-এর ক্যারিয়ারে সফল হতে হলে সর্বপ্রথম দরকার উত্কৃষ্ট মানের কমিউনিকেশন স্কিল। বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে স্বতঃষ্ফূর্তভাবে মেলামেশা করতে আপনি যত সক্ষম হবেন ততই পিআর এজেন্ট হিসেবে আপনার সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়বে। এছাড়াও দরকার গবেষণা করার ক্ষমতা। আপনার ক্লায়েন্ট সংস্থা বা সেলেবটির ব্যাপারে নিঁখুত এবং বিস্তারিত গবেষণা করতে হবে। সে কোন কনজিউমার বা দর্শকদের এন্টারটেইন করছে, তার ইউএসপি (ইউনিক সেলিং পয়েন্ট) কী, সে সম্বন্ধে আপনার অবগত থাকতে হবে, না হলে ভাল ব্র্যান্ড গড়ে তুলতে পারবেন না। তা ছাড়াও লাগবে ভাল লেখার ক্ষমতা। আপনার ক্লায়েন্টের জন্য প্রেস রিলিজ আপনাকে দক্ষভাবে লিখতে হবে, যাতে সেটা দর্শকের নজর কাড়ে।
আয়-রোজগার : আর পাঁচটা পেশার মতোই এই পেশাতেও আপনার উপার্জন কীরকম হচ্ছে, তা নির্ভর করবে আপনার অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতার উপর। সাধারণত বছরে ৪-১২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘোরাফেরা করে পিআর প্রফেশনালদের মাসিক আয়।
শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাধারণত পিআর সংস্থারা যেকোনও বিষয়ে গ্র্যাজুয়েশন চায়। কোনও বিষয়ের বাধ্যবাধকতা নেই। তবে কাজটা যেহেতু মূলত সৃজনশীল, তাই আপনি যদি সাহিত্য, মাস-কমিউনিকেশন ইত্যাদি বিষয়ে স্নাতক হন, তাহলে সেটি অ্যাডেড অ্যাডভান্টেজ! এখন যখন জেনেই গেলে যে পিআর হতে গেলে কী করা উচিত, তা হলে আপনাকে দ্য নেক্সট পিআর ম্যাজিশিয়ান হতে রুখছে কে?