হাতিয়া (নোয়াখালী) সংবাদদাতা
তৃতীয় দফায় ভাসানচরে পা রাখলেন ১ হাজার ৭৭৮ জন রোহিঙ্গা। গতকাল শুক্রবার দুপুরে নৌবাহিনীর চারটি জাহাজে চট্টগ্রাম থেকে ভাসানচরে পৌঁছে রোহিঙ্গারা। ভাসানচরে আসার পরপরই প্রথমে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্মীরা। এরপরেই নিয়ে যাওয়া হয় ওয়্যার হাউজে। সেখানে ভাসানচরে বসবাসের বিভিন্ন নিয়মকানুন সম্পর্কে ধারণা দেন নৌবাহিনীর সদস্যরা। এর আগে শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকা থেকে চারটি জাহাজ এ রোহিঙ্গাদের নিয়ে ভাসানচরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। ভাসানচরে স্থানান্তরের জন্য বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের উখিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠ থেকে বাসে করে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়।
চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মোজাম্মেল হক বলেন, চারটি জাহাজে রোহিঙ্গাদের ও অন্য একটি জাহাজে করে তাদের মালপত্র নিয়ে আসা হয়। নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের দুটি জাহাজ ও চারটি স্পিডবোট নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রোহিঙ্গাদের বহনকারী জাহাজের সঙ্গে ছিল বলে তিনি জানান। কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির ও তার বাইরে থাকা প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে নিয়ে নানা সামাজিক সমস্যা সৃষ্টির প্রেক্ষাপটে দুই বছর আগে তাদের একটি অংশকে হাতিয়ার মেঘনা মোহনার দ্বীপ ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেয় সরকার। ১৩ হাজার একর আয়তনের ঐ চরে ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করে ১ লাখের বেশি মানুষের বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। টেকনাফ ও উখিয়ায় থাকা রোহিঙ্গার মধ্যে গত ৪ ডিসেম্বর ১ হাজার ৬৪২ রোহিঙ্গাকে প্রথম দফায় ভাসানচরে নেওয়া হয়। এরপর দ্বিতীয় দফায় গত ২৮ ডিসেম্বর ১ হাজার ৮০৫ জন রোহিঙ্গা ঐ আশ্রয়ণ প্রকল্পে পৌঁছায়। এর আগে সাগর পথে পালিয়ে বিদেশ যাওয়ার সময় ৩০৬ জন রোহিঙ্গাকে আটক করে ভাসানচরে নিয়ে আসে নৌবাহিনীর সদস্যরা। তৃতীয় দফার স্থানান্তরের জন্য বুধবার রাতেই রোহিঙ্গাদের উখিয়ার কুতুপালংসংলগ্ন ট্রানজিট ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়। উখিয়া ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাসে জড়ো করা হয় অন্তত ৫০টি বাস। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঐ মাঠ থেকেই বাসগুলো তাদের নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
ভাসানচরে দায়িত্বরত এপিবিএন পুলিশের এসপি রতন দাস গুপ্ত জানান, রোহিঙ্গারা ভাসানচরে এসে আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠে।