জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন কলাবাগান, আমবাগান, ইসলামনগর ও রাঙ্গামাটি এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। যাদের সবাই স্কুল ও কলেজের ছাত্র। ফেসবুক গ্রুপ, বাহারি পোশাক ও মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়ার মাধ্যমে এলাকায় নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করে তারা। আবার মাদকসহ যে কোনো ছোটোখাটো বিষয়ে বিবাদে জড়িয়ে পড়ছে নিজেরাই।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কলাবাগান এলাকায় সক্রিয় সবচেয়ে বড় গ্যাং ‘ডিফারেন্ট বয়েজ’। এই গ্যাংয়ের সদস্যরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীর সন্তান। তবে এ গ্রুপের ছেলেরা জিআই পাইপ নিয়ে ঘুরে বেড়ায় বলে এরা ‘জিআই পাইপ’ গ্রুপ নামেও পরিচিত। অন্যদিকে রাঙ্গামাটি এলাকায় সক্রিয় ‘তুর্য নেটওয়ার্ক’ নামের আরেকটি গ্যাং। এলাকার কথিত ‘বড় ভাই’ তুর্য নামের এক ব্যক্তি ইন্টারনেটের ব্যবসা পরিচালনার জন্য এ গ্যাংটিকে হাতে রেখেছে। এদিকে তুর্যকে পরিচালনা করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক ছাত্রনেতা। এছাড়া ইসলামনগর এলাকায় সক্রিয় ‘রিমু গ্যাং’। সূত্র জানায়, এলাকায় ইন্টারনেট ও ডিশের ব্যবসা পরিচালনার জন্য এ গ্যাংটিকে হাতে রেখেছে আরেক নেতা।
আরও পড়ুন: র্যাগিংয়ের দায়ে জাবি'র ১১ শিক্ষার্থী বহিষ্কার
আমবাগান এলাকায় ‘ব্রাদারহুড’ নামের গ্যাং গড়ে উঠলেও পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর টনক নড়ে তাদের। পরে তারা এলাকায় গড়ে তোলে ‘ব্রাদারহুড এতিম তহবিল’ নামে একটি সংগঠন। এই সংগঠন এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ করার পাশাপাশি সামাজিক কাজও করছে। তারা এলাকার রাস্তা পলিথিনমুক্ত করা, বাঁশ দিয়ে ডাস্টবিন তৈরি, সাত জন অনাথ শিশুকে মাদ্রাসায় ভর্তি করানো, সাভার ও আশুলিয়ার ১০টি এলাকায় ভালোবাসার দেওয়াল (কাপড় দেওয়া ও নেওয়া) তৈরি, করোনাকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ১০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণসহায়তা, দোকানের সামনে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে বৃত্ত তৈরি, মাস্ক বিতরণ, জীবাণুনাশক স্প্রে ছিটানো, রক্ত দান ও এতিমদের খাওয়ানোর কাজ করেছে। তবে কলাবাগান, ইসলামনগর ও রাঙ্গামাটি এলাকায় এখনো সক্রিয় তিনটি কিশোর গ্যাং। তুচ্ছ ঘটনায় এ তিন গ্যাংয়ের অন্তত ছয়-সাতটি বড় ধরনের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে ছুরিকাঘাতে যুবক হত্যা
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান ইত্তেফাককে বলেন, ‘কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থানীয় শিক্ষার্থীরাও জড়িত। আমরা অনেক দিন ধরেই কিশোর গ্যাং নিয়ে কাজ করছি। একটা তদন্ত কমিটিও করা হয়েছিল জাহাঙ্গীরনগর স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের একটি ঘটনা নিয়ে। ভবিষ্যতে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটালে আমরা ব্যবস্থা নেব। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও বাইরে গিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়ানো উচিত নয়। আশুলিয়া থানার ওসি এস এম বদরুল আলম বলেন, ‘ঐ এলাকার কিশোর গ্যাংগুলোর বিষয়ে আমরা জানতে পেরেছি। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নেব।’
ইত্তেফাক/এমএএম