মহিলা অঙ্গন প্রতিবেদক
রাজনীতি হলো বড় সমাজ সেবা। আর এখানে আছে বহুমুখী চ্যালেঞ্জ- অভিযোগ না করে এই চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করতে হবে- এভাবেই নিজের রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে কথা বলেন, সংসদের চাঁদপুর-৫ হাজিগঞ্জ ও শাহরাস্তির সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সাংসদ নূরজাহান বেগম মুক্তা। রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম আর বেড়ে উঠা তাকে রাজনৈতিক দিক্ষায় দিক্ষিত করে। বাবা ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সদস্য আবুজাফর মোহাম্মদ মঈনউদ্দিন। পেশায় আইনজীবী বাবার দৃঢ় অংশগ্রহণ ছিল ৬ দফা, ভাষা আন্দোলন মুক্তিযুদ্ধসহ স্বাধীনতা উত্তর দেশের পূর্ণগঠনে। আপসহীন পক্ষঅবলম্বনের জন্য বাবাকে বারবার কারাবরণ করতে হয়েছে। বাড়ির রাজনৈতিক আবহ পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে বড় মুক্তার অস্তি মজ্জায় রাজনীতি ঢুকিয়ে দিয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত চাঁদপুরেই পড়াশোনা করেন তিনি। পরে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন তখন থেকে ছাত্ররাজনীতিতে ছিল তার সক্রিয় অংশগ্রহণ।
৮৪-৮৫ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলো তাকে রাজনীতে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রাখে। যত দিন যায় ততই তার রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়তে থাকে। সে সময় সামসুন নাহার হলেন সাধারণ সম্পাদক মুক্তা হলের অসংগঠিত কমিটিকে সংগঠিত করতে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় (সুলতান-রহমান) কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য হয়ে অংশ নেন স্বৈরাচারি সরকারের পতনের আন্দোলনে। এই দিনগুলো আজ মুক্তর স্মৃতির পটে জ্বলজ্বলে। ঢাকা বিশ্ববিদালয় থেকে এলএলবি এলএলএম পাস করেন। পরে বাবা মারা গেলে পরিবারের হাল ধরতে তাকে আইন পেশায় ঢুকতে হয়। সে সময় হাজিগঞ্জ উপজেলার আওয়ামী লীগ আইন বিষয়ক সম্পাদক হন মুক্তা। স্মৃতি হাতরে বলেন, তৃণমূলের রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্ক হয় আমার। বাবার গ্রহণযোগ্যতার জন্য মানুষ আমাকে গ্রহণ করেন। আইন পেশায় তিনি সুপ্রিম কোর্টের সহকারী এটর্নি জেনারেল এবং ডেপুটি এটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন নূরজাহান বেগম মুক্তা।
২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আদালতে প্রসিকিউটর-এর দায়িত্ব পালন করেন। আর ১/১১-এ যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আটক হন তখন তার আইনজীবীদের মধ্যে নূরজাহার বেগম মুক্তাও ছিলেন। ২০১৪ সালে প্রথম বারের মতো সংরক্ষিত নারী আসনের হয়ে আসনে দেশের আইনপ্রণয়ে ভূমিকা রাখতে। সংসদ সদস্য হয়ে তিনি নিজের দুই উপজেলায় উন্নয়নে আঁটঘাঁট বেঁধে নামেন। এতে বিশেষ সহযোগিতা করে তার বাবার গ্রহণযোগ্যতা বলে মনে করেন মুক্তা। মুক্তা বলেন, বাবাকে মানুষ অনেক ভালোবাসত বলেই আমাকে তারা আপন করে নিয়েছে। আমি পাঁচ বছরে দুই উপজেলাতে ৫শত করে একহাজার উঠান বৈঠক করি। নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ ও মাদক বন্ধে আমার কর্মীদের নিয়ে কাজ করি। প্রতিবন্ধী আর বয়স্ক, বিধবা ভাতার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি আমি আমার এলাকার দরিদ্র মানুষগুলোর পাশে থেকে ভালোবাসা পেয়েছি। তিনি বলেন, আমার সঙ্গে আমার এলাকার নির্বাচিত সংসদ সদস্যের কোনো দ্বন্দ্ব নেই। তিনি বলেন, অভিযোগ না করে চ্যালেঞ্জ এক্সসেপ্ট করে রাজনীতি করতে হবে। পাঁচ বছর কাজ করে তাদের দল ও দলপ্রধান প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে উন্নত দেশ গড়ার কাজে নেমেছেন। আবার সুযোগ হলে নিজের সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নূরজাহার বেগম মুক্তা। তিনি বলেন, সংসদের ভিতরে আন্তর্জাতিক, জাতীয়, এলাকায় জনবহুল সমস্যা নিয়ে কথা বলেছি। এছাড়াও সিজারিয়ান সমস্যা, শিক্ষার্থীদের বেশি বই বহন সমস্যা, নিরাপদ খাবারসহ বিভিন্ন জাতীয় সমস্যা সমাধানের জন্য সংসদে ও দলের ভিতরে কথা বলেছি।