একটি ছোট্ট ভ্যানগাড়ি থেকে আলোর ফেরিওয়ালা

>> জাহিদ হাসান দিপু

 

একটি ভ্যানগাড়িও হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের আলোকোজ্জ্বল সাফল্যগাথার অংশীদার। কারণ ভ্যানগাড়িটি বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নিয়ে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে বিদ্যুত্ সংযোগ দিচ্ছে। প্রতিদিন সকাল থেকে দুজন লাইনম্যান ও একজন ওয়্যারিং পরিদর্শকের ভ্যানগাড়িটি নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন লোকালয়ে। উদ্দেশ্য গ্রাহকের কাছে বিদ্যুত্ পৌঁছে দেওয়া। এভাবে বিদ্যুত্ পৌঁছে দেওয়ার মধ্যে কোনো হয়রানি নেই, দিতে হচ্ছে না বাড়তি অর্থ।

ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগের নাম ‘আলোর ফেরিওয়ালা’। আর এর উদ্যোক্তা হরিণাকুণ্ডু উপজেলা পল্লী বিদ্যুতের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) শেখ আবদুর রহমান।

হরিণাকুণ্ডু হলো ঝিনাইদহের একটি উপজেলা। আটটি ইউনিয়নের এই উপজেলায় গ্রাম আছে ১৩৬টি, যেখানে প্রায় তিন লাখ লোক বসবাস করছে। চাঁদপুর নামের একটি ইউনিয়ন ছাড়া বাকি সাতটি ইউনিয়নে ৩৭ হাজার ২১৫ জন পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই নতুন সংযোগ দেওয়ার কাজ চলছে।

পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি থেকে জানা গেছে, গত ২৪ ডিসেম্বর ‘আলোর ফেরিওয়ালা’ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. আলতাফ হোসেন। ওই দিনই ১৩টি নতুন সংযোগ দেওয়া হয়। এরপর ২৫ ডিসেম্বর ১৫টি, ২৬ ডিসেম্বর ১৬টি ও ২৭ ডিসেম্বর ১১টি সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এরপর নির্বাচনের কারণে তাদের কার্যক্রম তিন দিন বন্ধ ছিল, যা আবার শুরু হয়েছে। সম্প্রতি পল্লী বিদ্যুতের সেই আলোর ফেরিওয়ালা খ্যাত শেখ আবদুর রহমানকে সংবর্ধনার উদ্দেশ্যে ঢাকায় ডেকে আনেন বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী এবং বিদ্যুত্ ভবনে এক সভায় তাকে অভিনন্দন জানান।

এ সময় বিদ্যুত্ বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বিদ্যুত্ বিতরণ কোম্পানিগুলোকে গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করতে আরও বেশি তত্পর হওয়ার পরামর্শ দেন। এ সময় আলোর ফেরিওয়ালার কাছে তার কর্মযজ্ঞের বিস্তারিত জানতে চান তিনি। শেখ আবদুর রহমান সবকিছু জানান ও গ্রাহকের জন্য আরও বেশি কাজ করে যাবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। শেখ আবদুর রহমানের এই কাজ প্রশংসনীয় এবং এই কাজের উদ্দেশ্য গ্রাহক হয়রানি প্রতিরোধ করা।

এই উদ্যোগকে সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন শেখ আবদুর রহমান। গত ৩ জানুয়ারি একটি জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকায় এই সংবাদ প্রকাশের পর ৫ জানুয়ারি পল্লী বিদ্যুতের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মঈন উদ্দিন ওই দিনই দেশের ৮০টি সমিতির জিএমদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করেন। তিনি প্রত্যেককে ১০টি করে এই ভ্যান নামিয়ে গ্রাহকদের সেবা দেওয়ার পরামর্শ দেন। ৫ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে ৮০০ ভ্যান (আলোর ফেরিওয়ালা) কাজ করে যাচ্ছে।

এর ফলে বাংলাদেশ বিদ্যুত্ খাতে নতুন এক যুগে প্রবেশ করল। ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগকে সামনে রেখে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে বিদ্যুত্ খাতে সভায় সেই আশা ব্যক্ত করেন বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী। ‘আলোর ফেরিওয়ালা’র মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ উজ্জ্বল সম্ভাবনার স্বর্ণদ্বার উন্মোচন করেছে। শেখ আবদুর রহমানের মতো যদি আরও অনেকে বিদ্যুত্ ঘরে ঘরে পৌঁছে দেন তাহলে বাংলাদেশ সমৃদ্ধির জগতে পা রাখবে।