ইব্রাহিম খলিল
একটা কাঁথায় জোড়াতালি, দশখানে তার ছেঁড়া
মাটির মেঝে ছোট্ট ঘরের, পাটখড়ি তার বেড়া
মাটির মেঝেই রাতটা কাটে, হিম শীতল এই ঘরে
শীতটা এলেই ভোগেন তিনি ঠান্ডা-কাশি-জ্বরে।
ভাঙা বেড়ার ফাঁক গলিয়ে হিমেল হাওয়া ছোটে
তেল চিটচিট রুগ্ণ কাঁথায় শীত মানে না মোটে।
রান্নাবাড়া নিজেই করেন বাড়ি ফিরে রোজ—
একলা মানুষ একলা ঘরেই, প্রতিদিনের ভোজ।
গরমকালে ভালোই থাকেন, শীতকাল তাঁর যম
অ্যাজমা রোগের প্রাদুর্ভাবে যায় বেরিয়ে দম।
হাঁটুর ব্যথায় ঘুম আসে না, রাতটা বিষাদময়—
ভয়েই থাকেন একলা ঘরে—কখন কী যে হয়।
দশ দুয়ারে হাতটা পেতে, যেইটুকু হয় আয়—
তা দিয়েই সে কোনোমতে রোজের খাবার খায়।
ওষুধ পথ্য কোথায় পাবে, কষ্টে জোটে ভাত—
এমনও দিন কাটে বুড়োর—অভুক্ত যায় রাত।
ছেলেমেয়ে যে যার মতোন ফ্ল্যাটবাড়িতে থাকে—
ঘর গৃহস্ত করার জন্য, কাজের লোকও রাখে।
শপিংমলে শপিং করে, মুভি দেখে রোজ,
বছর জুড়ে এই বুড়োটার নেয় না কোনো খোঁজ।