ঠাকুরগাঁও পৌরসভা
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁও পৌর এলাকায় রাস্তাঘাট, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাসহ সড়কে যানজটের বেহাল অবস্থা দেখা গেছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছে পৌরবাসী। দেখা যায়, পৌর শহরের অধিকাংশ রাস্তায় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। নর্দমার মধ্যে জমে থাকছে ময়লা পানি। বর্ষা মৌসুমে পানি উপচে পড়ে রাস্তায়। ভাঙাচোরা নর্দমায় ঢাকনাও নেই। রাস্তার মোড়ে মোড়ে বর্জ্যের স্তূপ। কয়েকটি রাস্তায় বৈদ্যুতিক বাতি না থাকায় সন্ধ্যার পর অন্ধকারে চলা যায় না। এছাড়া অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের কারণে প্রায়ই যানজট লেগে থাকে। পৌরভবনসহ পৌরসভানিয়ন্ত্রিত হাটবাজার ও বাস টার্মিনালে সংস্কার নেই।
পৌরসভার সেবার মান নিয়ে কথা তুলতেই মুসলিম নগর এলাকার অজয় বিশ্বাস কর পরিশোধের রসিদ বের করে বলেন, ‘গত কয়েক বছরে অনেক টাকা কর পরিশোধ করেছি। অথচ গত বর্ষায় হাঁটুপানি ডিঙিয়ে অফিসে যেতে হয়েছে। অথচ বেশির ভাগ রাস্তায়ই অন্ধকার থাকে। একাধিক বার অভিযোগ করেও সুফল পাইনি।’ হাজীপাড়ার মুস্তারি বেগম বলেন, ‘ছোটবেলায় দেখেছি পৌরসভার লোকজন এসে বাড়ির আশপাশের রাস্তায় মশার ওষুধ স্প্রে করে, রাস্তায় ধুলা হলে পানি ছিটিয়ে যায়, কিন্তু এখন সেই কাজগুলো করতে দেখা যায় না। বাড়ির সামনে উন্মুক্ত ড্রেন। কতবার বলেছি ড্রেনের ঢাকনার বিষয়ে। নিয়মিত কর পরিশোধ করছি। এতটুকু নাগরিক সেবা পাব না, এটা হয় না।’ ১ নম্বর শান্তিনগর এলাকায় ইজিবাইকচালক এরশাদুল হক (৩৬) বলেন, ‘রাস্তাঘাট ভাঙাচোরা হওয়ার কারণে গাড়ির ব্যাটারি ধাক্কা পায় বেশি। ব্যাটারির পানি পড়ে যায়।’
দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় পৌরসভানিয়ন্ত্রিত বাস টার্মিনালটির অবস্থাও বেহাল। দিনাজপুরে যাওয়ার উদ্দেশে টার্মিনালে আসা যাত্রী রাজেন্দ্রনাথ রায় বলেন, একটিমাত্র টয়লেট, সেটিও ব্যবহারের অনুপযোগী। ঠাকুরগাঁও জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর জব্বার বলেন, টার্মিনালটির সংস্কারের বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষকে একাধিক বার লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। পৌরসভার নিয়ন্ত্রণাধীন কালীবাড়ি, বাসস্ট্যান্ড, সেনুয়া ও ঠাকুরগাঁও রোড বাজার সংস্কার না হওয়ায় বৃষ্টির দিনে ভোগান্তিতে পড়ে মানুষ। তবে স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকায় রাস্তার মোড়ে মোড়ে ময়লা ফেলছেন অনেকেই। পৌরসভার হিসাবমতে, ৮৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ পৌর এলাকায় বৈদ্যুতিক সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। শহর ঘুরে দেখা যায়, কয়েকটি খুঁটিতে বৈদ্যুতিক বাতি নষ্ট। অধিকাংশ বাতিতে নেই সেপটিক ঢাকনা। বর্তমান সরকারের মেয়াদে পৌর মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন মির্জা ফয়সল আমিন। তিনি বিএনপির ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন। পৌরসভার এ বিষয়গুলোর ব্যাপারে পৌর মেয়র মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও পৌরসভা অনেক বড় একটি পৌরসভা। সেই তুলনায় উন্নয়ন বরাদ্দ অপ্রতুল। রাজনৈতিক বিবেচনায় বরাদ্দ কম পেয়েছি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নগর উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে বড় একটি বরাদ্দ হয়েছে। যার কাজ চলমান রয়েছে। বিশ্বব্যাংক থেকে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা এবং এমজিএসপি প্রকল্পের আওতায় খুব শিগিগর বড় বরাদ্দ পাওয়া যাবে।’