টম্যাটো বিক্রির অনিশ্চয়তা দূর হয়েছে কৃষকদের

চুক্তিভিত্তিক চাষের সুফল   

ইত্তেফাক রিপোর্ট

দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি টম্যাটো উত্পাদন হয় রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলায়। এছাড়া রাজশাহী সদর ও পদ্মার চরেও প্রচুর টম্যাটো চাষ হয়। তবে উত্পাদন অনেক বেশি হওয়ায় ভরা মৌসুমে কৃষকেরা ভালো দাম পাচ্ছিলেন না। অনেক ক্ষেত্রে বাজারে নেওয়ার পরে পরিবহন খরচও উঠত না। জোগান বেশি হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে বিক্রি করতে না পেরে কৃষকেরা এসব টম্যাটো ফেলে দিতে বাধ্য হতেন। দ্রুত পচনশীল দ্রব্য হওয়ায় সংরক্ষণ করার মতো কোনো ব্যবস্থা ছিল না তাদের কাছে। এমন অবস্থা যখন চলছিল, তখন এগিয়ে এসেছে বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠান প্রাণ অ্যাগ্রো বিজনেস লিমিটেড। এ এলাকায় প্রচুর পরিমাণে উত্পাদন হওয়া টম্যাটো সংগ্রহ করে তা থেকে সস ও কেচাপ তৈরির ব্যবস্থা করছে। এজন্য স্থানীয় চাষিদের সঙ্গে চুক্তিও করেছে কোম্পানিটি। চাষিদের জন্য লাভজনক হওয়ায় দিনে দিনে চুক্তিভিত্তিক চাষির সংখ্যাও বাড়ছে বলে জানা গেছে।

প্রাণ অ্যাগ্রো সূত্রে এবং সরেজমিন পরিদর্শন করে কৃষকদের কাছ থেকে জানা গেছে, আগে উত্পাদিত টম্যাটো বিক্রি করাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। টম্যাটোর ভরা মৌসুমে দাম কম হওয়া বা বিক্রি করতে না পেরে গরু-ছাগলকে খাওয়ানো লাগত। এখন প্রাণের সঙ্গে চুক্তিতে টম্যাটো উত্পাদন করার ফলে সেই অবস্থা থেকে বের হতে পেরেছেন কৃষকেরা।

গোদাগাড়ীর স্থানীয় কৃষক ইফতেখার আহমেদ মুন্না বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে বড় আকারে কৃষিকাজ করছেন তিনি। পেয়ারা, বরই, টম্যাটোসহ নানা ফল ও সবজির চাষ করেন তিনি। অনেক বছর ধরেই টম্যাটো চাষ করছেন তিনি। আগে মৌসুমের শুরু ও শেষে টম্যাটোর দাম পেলেও ভরা মৌসুমে বিপাকে পড়তে হতো। সব মিলিয়ে টম্যাটো চাষ করে লোকসান গুনতে হতো। তিনি বলেন, ‘প্রাণ কৃষকদের কাছ থেকে বাজারমূল্যে টম্যাটো কেনার চুক্তি করেছে। এতে এখন আর টম্যাটো বিক্রি না হওয়ার দুশ্চিন্তা নেই। পুরো মৌসুমেই তাদের কাছে টম্যাটো বিক্রি করতে পারি।’

জানা যায়, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল বলেন, প্রাণের প্রায় ১ লাখ চুক্তিভিত্তিক কৃষক রয়েছেন। নাটোর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা ও দিনাজপুর জেলায় প্রাণের চুক্তিভিত্তিক কৃষকেরা টম্যাটো উত্পাদন করে থাকেন। এ বছর প্রায় ১০ হাজার কৃষক ৮৬৭ বিঘা জমিতে টম্যাটো চাষ করেছেন। চলতি বছর টম্যাটো সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ১২ হাজার টন। ২০১৯-২০ সালে ৮ হাজার ৪০০ কৃষকের কাছ থেকে ৭ হাজার টন টম্যাটো সংগ্রহ করা হয়েছিল। ২০১৮-১৯ সালে ৭ হাজার ৫০০ চাষি দিয়েছিলেন প্রায় ৬ হাজার টন। প্রতি বছর প্রাণের চুক্তিভিত্তিক কৃষক বেড়েছে গড়ে প্রায় ২০ শতাংশ হারে। গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসার শফিকুল ইসলাম বলেন, এ এলাকার কৃষকেরা দীর্ঘদিন লোকসানে থাকায় এখন হর্টিংকালচারাল ক্রপসে আগ্রহী হয়ে উঠছে। রাজশাহীর গোদাগাড়ীর ৪৭ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির মধ্যে প্রতি বছর গড়ে ২ হাজার ৫০০ হেক্টরের বেশি জমিতে টম্যাটোর চাষ হচ্ছে।