খুলনায় লাইসেন্স বাতিল হওয়ার পরও প্রভাব খাটিয়ে জনবহুল, কৃষিজমি ও স্কুল-সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনা করা হচ্ছে। ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় ফসলহীন হয়ে পড়েছে এলাকা। শিশু থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে হাঁপানি, শ্বাসকষ্টসহ নানা ধরনের রোগ দেখা দিচ্ছে। এদিকে ইটভাটা নিয়ে সাংবাদিকদের তথ্য দেওয়ায় স্থানীয়দের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। ফলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের রামনাথপুর গ্রামের হতদরিদ্র জেলেপল্লির বাসিন্দাসহ ৫ সহস্রাধিক মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত সাত-আট বছর ধরে রামনাথপুর গ্রামের মানুষ ইটভাটা অপসারণের দাবি জানালেও ভাটার মালিকেরা তা শোনেননি। উলটো হুমকিসহ নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ২০০৫ সালে অখিলবন্ধু ঘোষ, আব্দুল মজিদ মোড়ল ও চিত্তরঞ্জন মণ্ডল নামে তিন ব্যক্তি রামনাথপুর গ্রামের কপোতাক্ষ নদসংলগ্ন এলাকায় ‘যমুনা ব্রিকস’ নামে একটি ইটভাটা স্থাপন করেন। পরে তারা আধুনিক জিগজ্যাগ কিলন ভাটা স্থাপনসহ সাতটি শর্তে অখিলবন্ধু ঘোষের নামে ২০১২ সালের ১ জুলাই থেকে ভাটা পরিচালনার লাইসেন্স পান। ২০১৫ সালের ৩০ জুন ঐ লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হলে ঐ ভাটা থেকে নিজের বিনিয়োগ অংশ তুলে নেন অখিলবন্ধু ঘোষ। তিনি ঐ সময় জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদপ্তরে লিখিতভাবে ভাটা পরিচালনা করবেন না বলে অবহিত করেন। সর্বশেষ ২০২০ সালের ২৯ ডিসেম্বর খুলনা জেলা প্রশাসক ঐ ভাটার লাইসেন্স বাতিল করেন।
বর্তমানে অপর মালিক চিত্তরঞ্জন মণ্ডল, মজিদ মোড়ল ও তার ছেলে মিঠু মোড়ল ভাটাটি পরিচালনা করছেন। একইভাবে তারা ঐ ভাটার পাশে জনবহুল এলাকায় ‘যমুনা ব্রিকস-২’ নামে আরেকটি ইটভাটা স্থাপন করেছেন।
ঐ এলাকার গৃহবধূ শেফালী বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা পরিবেশ উপমন্ত্রীসহ বিভিন্ন দপ্তরে ভাটা বন্ধের দাবি জানিয়েছি। তারা আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এখন আমরা মরতে বসেছি। কালো ধোঁয়ার কারণে শিশু ও বৃদ্ধদের শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। ভাটার ছাঁইয়ে ঘরে বসে খাবার রান্না ও খাওয়া যায় না। এখানকার মেয়ে-বউরা প্রতিনিয়ত ভাটার শ্রমিকদের বাজে ব্যবহারের শিকার হন। এ থেকে আমরা মুক্তি চাই।’
কৃষক অশোক কুমার দাস বলেন, আমি তিন-চার বিঘা জমিতে পান চাষ করতাম। এখন সব কয়লাখনি!
যমুনা ব্রিকসের মালিক চিত্তরঞ্জন মণ্ডল ইটভাটার লাইসেন্স না থাকার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা নতুন লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছি। যে শ্রমিক দুর্ব্যবহার করেছে, তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আমরা আইন মেনেই ভাটা চালাতে চাই।’
পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইজাজ শফি বলেন, ‘রামনাথপুরের ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।’
পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, ঐ ইটভাটায় দ্রুত অভিযান চালানো হবে। কোনোভাবেই অবৈধভাবে ইটভাটা চলতে দেওয়া হবে না।