খুলনায় বাড়ির ছাদে সেই শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার আলামত মিলেছে

খুলনায় বাড়ির ছাদে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে তৃতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে (৮) হত্যার আলামত পেয়েছে পুলিশ। পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, গত ২২ জানুয়ারি বিকালে খেলার ছলে অথবা ফুঁসলিয়ে খুলনা মহানগরীর দৌলতপুরের পাবলা বণিকপাড়ার ‘বীণাপাণি’ ভবনে নেওয়া হয় শিশুটিকে। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর নগরীর দৌলতপুর থানায় প্রথমে জিডি ও পরে অপহরণ মামলা করেন তার বাবা। গত ২৮ জানুয়ারি শিশুটির লাশ উদ্ধারের পর অপহরণ মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করা হয়। পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে, ২২ জানুয়ারি সন্ধ্যায় বীণাপাণি ভবনের ছাদে প্রথমে শিশুটিকে ধর্ষণ ও পরে জুতার ফিতা, নাইলন ও জালের দড়ি দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর লাশ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে সিঁড়ি ঘরে লুকিয়ে রাখা হয়। সিঁড়ি ঘরের ঐ স্থান ও ছাদের একাধিক স্থানে রক্তের দাগ, ভেজা                কাপড় ও বেশ কিছু আলামত দেখে পুলিশ এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে।

দৌলতপুর থানার ওসি (তদন্ত) বলেন, ঐ বাড়ির ছাদে রক্তের দাগ পেয়ে ধারণা করা হচ্ছে শিশুটিকে ভবনের ছাদেই হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে গত শুক্রবার দুপুরে নগরীর রূপসা মহাশ্মশানে আট বছরের মেয়েটির শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।

পুলিশের তদন্তে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দুই জনের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। এরা হলো—ঐ বীণাপাণি ভবনের মালিক প্রীতম ও বাড়ির কেয়ারটেকার শ্যামল। তাদের দুজনকেই আটক করেছে পুলিশ। এছাড়া বাড়ির ছাদের চাবি যে নারীর কাছে সার্বক্ষণিক থাকত সেই অনিতা দত্ত ও তার মেয়ে সৃষ্টি দত্তকে গত শুক্রবার দুপুরে আটক করেছে পুলিশ। তাদেরসহ ঐ বাড়ির আট জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের মানববন্ধন

স্কুলছাত্রী হত্যার প্রতিবাদে গতকাল শনিবার বিকালে নগরীর দৌলতপুরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। এ সময় বক্তারা অবিলম্বে শিশুটির হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন ও হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট দৌলতপুর শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শ্যামল সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তৃতা করেন, অ্যাডভোকেট মিনা মিজানুর রহমান, শাহীন জামান পন, মিজানুর রহমান বাবু প্রমুখ।