সংঘর্ষ, মারামারি, কেন্দ্র দখল করে ব্যালট বাক্স ছিনতাই, নির্দিষ্ট প্রতীকে প্রকাশ্যে সিলমারাসহ প্রার্থীদের ভোট বর্জনের মধ্য দিয়ে তৃতীয় ধাপে ৬২টি পৌরসভার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনী কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনেই এই ধাপে দেশের বিভিন্নস্থানে ব্যাপক সংঘর্ষ ও ব্যালটে সিলমারার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সকাল ৮টায় এসব পৌরসভায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকাল ৪টায় শেষ হয়। এই ধাপে সব পৌরসভায়ই ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণ হয়। ভোট গ্রহণের আগে প্রথম দুই ধাপে গোলযোগ-সংঘর্ষ হওয়ায় তৃতীয় ধাপে বিশেষ সতর্কতা নেওয়ার কথা জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তাতেও সহিংসতা, সংঘর্ষ ও ভোট অনিয়মের রাশ টানা যায়নি।
নির্বাচনী সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রিটার্নিং অফিসার-সহকারী রিটার্নিং অফিসার, কেন্দ্রের বাইরে ম্যাস্ট্রিটেট, মোবাইল টীম, স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৬জন সদস্য (ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৮জন), একজন প্রিজাইডিং কর্মকর্তার নেতৃত্বে প্রতিকক্ষে একজন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, দুইজন পোলিং অফিসার থাকার পরও ভোট অনিয়ম ঠেকানো যাচ্ছে না। ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিতরাই অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছেন। কোন কোন জায়গায় ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারাই নির্দিষ্ট প্রতীকে নিজেরাই বা অন্যদের সিলমারতে সহযোগিতা করছেন। ইতিমধ্যে জামালপুরের সষিষাবাড়িতে একজন প্রিজাইডিং অফিসার এবং সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং মুন্সিগঞ্জে দুইজন নির্বাচনী কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার এবং নির্বাচন কমিশন থেকে সুষ্ঠু ভোট করার নির্দেশনা থাকলেও স্থানীয় প্রশাসন তা তোয়াক্কা করছে না। বিভিন্ন স্থানে আর্থিক সুবিধা নিয়ে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। প্রশাসনের নির্বাচনে নগ্ন হস্তক্ষেপই সুষ্ঠু ভোটের প্রধান অন্তরায়। ভোটে অজনপ্রিয় প্রার্থীর পক্ষে প্রশাসনের অযাচিত হস্তক্ষেপের কারনে সহিংসতা ও সংঘর্ষেরে ঘটনা ঘটছে। নির্বাচনকালীন মাঠ প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের অধীণ ন্যাস্ত থাকে। তবে নির্বাচন কমিশনও কঠোর হস্তে স্থানীয় প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ। কেননা নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের পুরো দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসনের উপর ছেড়ে দিয়েছে।
আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যমতে, কটিয়াদীতে সংঘর্ষ, রামগঞ্জে গোলাগুলি, ধুনটে ও ফেনীতে প্রার্থীকে মারধর এবং গৌরীপুরে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া সিংড়া, দর্শনা, কটিয়াদী, কলারোয়া, সরিষাবাড়ীসহ বেশ কয়েকটি পৌরসভায় বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। কলারোয়ায় ভোটের আগেই উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু নিখোঁজ হন। ভোট থেকে সরে যেতে বাধ্য করা হয় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীকে। ময়মনসিংহের গৌরীপুরে পৌরসভায় ব্যালট ছিনতাইয়ের অভিযোগে তিন চেয়ারম্যানসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। ফেনী পৌরসভায় একটি কেন্দ্রে বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। কয়েকটি কেন্দ্রে হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু পৌরসভায় এক কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর এজেন্টসহ তিনজন আহত হয়েছে। টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর পৌরসভায় এক কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের উপর হামলা হয়েছে। এ ঘটনায় ১০ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে সোমেলো বেগম নামে এক নারীসহ দুই জনের কব্জি ও দুই জনের হাতের আঙ্গুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বগুড়ার নন্দীগ্রামে জাল ভোট দিতে গিয়ে পুলিশের হাতে কলেজের এক অধ্যক্ষ আটক হয়েছেন। খুলনার পাইকগাছায় বিএনপির প্রার্থী মনিরুজ্জমান মনির মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন থেকে নিখোঁজ ছিলেন। পরে প্রকাশ্যে আসলেও মুখ খুলেননি।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্র জানায়, ৬২টি পৌরসভায় ১৯ লাখ ভোটার ছিলেন। মোট ৩ হাজার ৩৪৪ জন প্রার্থী তৃতীয় ধাপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে মেয়র পদে ২২৯ জন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৭৫৫ এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২ হাজার ৩৬০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোটের আগেই এই ধাপে ৩৭ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেন। এর মধ্যে কুমিল্লার লাকসাম, বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ এবং গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া-এই তিন পৌরসভায় মেয়র পদে প্রার্থীরা ভোট ছাড়াই মেয়র হন। ভোটের আগেই লাকসামে সবাই নির্বাচিত হন।
কলারোয়ায় উপজেলা চেয়ারম্যান নিখোঁজ, দুই প্রার্থী লাঞ্ছিত : কলারোয়া (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা জানান, পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটের আগেই গত বৃহস্পতিবার রাতে কলারোয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল ইসলাম লাল্টুকে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়ে যান। ভোটের পর পর্যন্ত তার সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। অন্যদিকে, উপজেলা চেয়ারম্যানকে তুলে নেয়ার পর আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক আহবায়ক সাজেদুর রহমান খান চৌধুরী মজনুকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা লিখিত নিয়ে ভোট থেকে সরে আসতে বাধ্য করে। ভোটাররা জানান, ভোটের দিন কলারোয়া পৌরসভার ৯টি কেন্দ্রে শুধুমাত্র সংরক্ষিত কাউন্সিলর ও সাধারণ কাউন্সিলর নির্বাচনের ব্যালট দেয়া হয়। মেয়রের ব্যালটে নিজেরাই নৌকা প্রতীকে সিল মারেন নির্বাচনী কর্মকর্তা ও এজেন্টরা। বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কেন্দ্রে ঢুকতে চাইলে তাদের লাঞ্ছিত করা হয়। অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগে সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী শেখ শরিফুজ্জামান তুহিন ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী নারগীস সুলতানা সহ বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন। শনিবার (৩০ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২ টার মধ্যে প্রার্থীরা নিজ নিজ বাসভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় প্রশাসনের নগ্ন হস্তক্ষেপে অজনপ্রিয় নৌকার প্রার্থীকে জোর করে ব্যালটে সিল মেরে মেয়র করার সব আয়োজন সম্পন্ন করেছে।
এক নারীসহ দুইজনের হাতের কব্জি ও আঙ্গুল কর্তন :ভুঞাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, কুতুবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কে?ন্দ্রে জাল ভোট দেয়া নিয়ে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষে নারীসহ ১০জন আহত হয়েছে। এতে এক নারীর হাতের কব্জি ও দুই জনের হাতের আঙুল কেটে ফেলা হয়েছে। আহতদের মধ্যে সাতজনকে উন্নত চিকিত্সার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নির্বাচনে কেন্দ্র দখল ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তাহেরুল ইসলাম তোতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল দুপুর আড়াইটার দিকে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের টেপিবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এরআগে দুপুরের দিকে ওই কেন্দ্রে নৌকার স্লোগান দিয়ে একদল মানুষ কেন্দ্রে প্রবেশ করে নৌকা প্রতীকে জাল ভোট দিতে থাকে। কুতুবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার কক্ষসহ চারটি কক্ষ বন্ধ করে নৌকা প্রতীকে জাল ভোট দেয়া হয়। আরেক কাউন্সিলর প্রার্থী উটপাখি প্রতীকের জাহিদুল ইসলামের সমর্থকরা প্রতিবাদ করলে তাদেরকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়। পরে জাল ভোট দেয়া শেষ হলে তারা চলে যায়।
তিন চেয়ারম্যান আটক : গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, গৌরীপুর শেখ লেবু স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এনটিভির ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। এসময় নৌকা ও নারিকেল প্রতীকের সমর্থকদের সংঘর্ষের ছবি তুলতে গিয়ে আহত হন এনটিভির ক্যামেরাপারসন মাসুদ ও একাত্তর টিভির ক্যামেরাপারসন জামান। গুরুতর আহত এনটিভির ক্যামেরাপারসন মাসুদকে উন্নত চিকিত্সার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে গৌরীপুর সরকারি কলেজ কেদ্রে ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের অভিযোগে রামগোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল আমিন জনি, অচিন্তপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম অন্তর, ছাত্রলীগ নেতা কাউসার মিয়া ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান দুলাল আহমেদকে আটক করেছে পুলিশ।
ফেনীতে বিস্ফোরণ, জাল ভোট : ফেনী প্রতিনিধি জানান, পৌরসভা নির্বাচনে ককটেল বিস্ফোরণ, হামলা, জাল ভোট দেওয়ার ঘটনা ঘটে। সকাল ৯টার দিকে পশ্চিম রামপুর তেঁতুলগাছ তলায় ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ডালিম প্রতীকের তাজুল ইসলাম পাভেল ও গাজর প্রতীকের নুরুল ইসলামকে পিটিয়ে আহত করেছে বহিরাগতরা।এছাড়া রামপুর হাজী সামছুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্রের সামনে থেকে ককটেলসহ এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
কটিয়াদীতে ধাওয়া গুলি ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ :কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, কটিয়াদী পীেরসভার ৫ নং ওয়ার্ডেও দড়ি চরিয়াকোনা প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে কাউন্সিলর প্রার্থীদের মাঝে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় পুলিশ ফাঁকা গুলি ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কটিয়াদী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়েও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া করে দুই কাউন্সিলর প্রার্থী। কটিয়াদী পৌর নির্বাচনে শনিবার বিএনপির মেয়র প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন খাঁন বেলা ১১ টায় এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন বর্জন ঘোষনা করেন। পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডেও কাউন্সিলর প্রার্থী রনবীর সিংহ (আওয়ামী লীগ) নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এনে সকালে নির্বাচন বর্জন করেন।
সরিষাবাড়িতে দুই নির্বাচনী কর্মকর্তা আটক :সরিষাবাড়ী (জামালপুর) সংবাদদাতা জানান, আর ইউ টি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যালট পেপার অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছে প্রশাসন। এ ঘটনায় ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো. মাহবুবুল আলম তরফদার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার আব্দুল মোতালেব ও শাহাবুদ্দিন আহমেদকে আটক করেছে পুলিশ। অপরদিকে, আরামনগর কামিল মাদরাসা কেন্দ্রে কাউন্সিলর প্রার্থী সুরুজ্জামান (ডালিম) ও লিটন মিয়ার (উটপাখি) সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পুলিশ আর এম রাকিব ও বিশু মিয়া নামে দুইজনকে আটক করে। এছাড়া উত্তর বলারদিয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। দুপুরে সেখানে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয় । বাউসি বাঙালি কেন্দ্রে কাউন্সিলর প্রার্থী আফসার উদ্দিনকে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর লোকজন মারধর করেছে। এদিকে নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জন করেছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী এ কে এম ফয়জুল কবীর তালুকদার শাহীন।
রামগঞ্জে সংঘর্ষে আহত ২৫,শতাধিক রাউন্ড গুলিবর্ষন :রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা জানান, লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ পৌরসভার একটি ভোট কেন্দ্রের কাউন্সিলর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকরা রামগঞ্জ-চাটখিল সোনাইমুড়ি সড়কে গাছ ফেলে অবরোধ করে বিক্ষোভ করে আইনশৃংখলা বাহিনীর উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করেছে। শনিবার দুপুরে পৌরসভার কাজিরখিল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র দখলকে কেন্দ্র করে কাউন্সিলর প্রার্থী সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দফায় দফায় সংঘর্ষে আহত হয়েছে কমপক্ষে ২৫জন। আহতদের রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে শতাধিক রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে পুলিশ।
নৌকায় সিল, মুন্সীগঞ্জে দুই নির্বাচনী কর্মকর্তা আটক :মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে অবৈধ ভোট দানে বাধা না দেওয়ার অভিযোগে এক কেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং পোলিং আফিসারকে প্রত্যাহার ও আটক করা হয়েছে। দুপুর ১টায় এ ঘটনায় দুই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে বলে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও পুলিশ জানিয়েছে। তাদের উপস্থিতিতে নৌকায় সিলমারা হয়।
বরগুনায় জাল ভোট দিতে গিয়ে আটক ৬ :বরগুনা (উত্তর) প্রতিনিধি জানান, বরগুনা পৌরসভা নির্বাচনে জাল ভোট দিতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়েছে ৬ জন। বরগুনা সরকারি কলেজে ১ নম্বর কেন্দ্রের ৬, ৭ ও ৮ নম্বর বুথ থেকে তাদের আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আটককৃতরা হলেন: নাইম, রেজাউল করিম, ইয়াসিন আরাফাত, মাসুদ , জাহিদুল ইসলাম রাব্বি ও জাফর।
হরিনাকুন্ডু এজেন্টকে কুপিয়ে জখম :ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি জানান, ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডু পৌরসভার জোড়া পুকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে নির্বাচনী সহিংসতায় নৌকা প্রতিকের প্রার্থীর এজেন্ট সাগর আলি সহ ৩ জন আহত হয়েছে। সেসময় সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ ১৮ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। বেলা ১১ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
দামুড়হুদায় দুই প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষ :দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা জানান, দুপুরে পৌরসভার আনোয়ারপুর ভোট কেন্দ্রে সরকার সমর্থিত দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি কামাল উদ্দিন সান্টু ও রিপন মিয়া নামে একজন আহত হয়েছে। বিএনপি সমর্থিত ধানের শীষ প্রতিকের মেয়র প্রার্থী হাবিবুর রহমান অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন বর্জন করেছেন।
মণিরামপুরে হাতবোমা :যশোরের মণিরামপুর পৌরসভার ৯ নম্বর বিজয়রামপুর কেন্দ্রের অদূরে এক কাউন্সিলর প্রার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে। এ সময় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে কয়েকটি হাত বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয় বলেও অভিযোগ ওঠে।
নলছিটিতে জালভোট : ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আবদুল ওয়াহেদ খানের কর্মীদের সঙ্গে বহিরাগতরা কেন্দ্র দখল করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিটি বুথে মেয়র প্রার্থীর ব্যালট রেখে ভোটারদের শুধু কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের ব্যালট দেয়া হয়।