এইচএসসির ফল :বিশেষ মূল্যায়নে শতভাগ পাশ

এইচএসসির ফল প্রকাশ হলো। পাস করল সবাই। তবুও নেই উল্লাস-উচ্ছ্বাস। স্কুলে বাজছে না ঢোল, বাদ্য। শিক্ষার্থী একে অপরকে জড়িয়ে ধরে করেনি আলিঙ্গন। মিষ্টির দোকানে নেই কোনো ভিড়। করোনা মহামারির কারণেই এই নিরানন্দ অবস্থা। পরীক্ষার প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি শিক্ষার্থীরা। করোনা মহামারির কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বিবেচনায় পরীক্ষা আয়োজন করেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরীক্ষা ছাড়াই আগের পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ২০২০ সালের এইচএসসি ও সমমানের মূল্যায়নে সবাইকে পাশ করানো হয়েছে। আর এতে জিপিএ-৫ পেয়েছে দেড় লক্ষাধিক শিক্ষার্থী।

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১৩ লাখ ৬৭ হাজার ৩৭৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ          নেওয়ার জন্য ফরম পূরণের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করেছিল। এইচএসসি ও সমমানে গতবার অর্থাত্ ২০১৯ সালে পাশের হার ছিল ৭৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। তার আগের বছর ছিল ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ৮০৭ জন শিক্ষার্থী। গতবার এই সংখ্যা ছিল ৪৭ হাজার ২৮৬। তার আগের বছর ছিল ২৯ হাজার ২৬২।

এসএসসির ৭৫ শতাংশ এবং জেএসসির ২৫ শতাংশ নিয়ে ফল তৈরি করার জন্য ‘সাবজেক্ট ম্যাপিং’ করা হয়। এতে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর জিপিএ বেড়েছে। এ কারণে জিপিএ-৫ সংখ্যা বেড়েছে। জেএসসি ও এসএসসিতে জিপিএ-৫ না পেয়েও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭ হাজার শিক্ষার্থী। তবে উলটো ঘটনাও ঘটেছে। জেএসসি ও এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পায়নি এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৯৬ জন।

ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এইচএসসি-সমমান পরীক্ষা নেওয়ার জন্য আমরা অনেক দিন অপেক্ষা করার পরও করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় সবাইকে পাশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আমাদের কাছে আর কোনো রাস্তা না থাকায় এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তবে আমাদের পরীক্ষার্থীরা ক্লাসে তাদের সিলেবাস শেষ করেছে। পরীক্ষা দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিতে পেরেছে। এ কারণে তাদের পরীক্ষা ছাড়া পাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আশা করি শিক্ষার্থীরা প্রাপ্ত ফল পেয়ে সন্তুষ্ট থাকবে। তারপরও যদি কেউ নিজের ফলে অসন্তোস প্রকাশ করে, তারা রিভিউ করার সুযোগ পাবে। দ্রুত শিক্ষা বোর্ডগুলো থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হবে।

প্রকাশিত ফলে দেখা যায়, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১১ লাখ ৪৫ হাজার ৩২৯ জন শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ৫৩ হাজার ৬১৪ জন। জিপিএ-৫-এর শতকরা হার ১৩.১৪ শতাংশ। ৪ হাজার ৫৩৯টি প্রতিষ্ঠান থেকে তারা পরীক্ষায় অংশ নেয়।

এর মধ্যে এবার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৩ লাখ ২৬ হাজার ৪১ জন। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৭ হাজার ৯২৬ জন শিক্ষার্থী। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৭৬ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৬ হাজার ৫৬৮ জন। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ২ হাজার ৪৩৪ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৬৪ জন।

যশোর শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ২১ হাজার ৫২৮ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২ হাজার ৮৯২ জন। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ৯৭ হাজার ৯৬৭ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২ হাজার ১৪৩ জন। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ৬৮ হাজার ৯২০ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ৫৬৮ জন। সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ৭৫ হাজার ৩২৩ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ২৪২ জন। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী  ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৩৫ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪ হাজার ৮৭১ জন। ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ৮৪ হাজার ৪০৫ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ হাজার ৪০ জন।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ফল :মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২ হাজার ৬৮৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮৮ হাজার ৩০২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে শতভাগ পাশ করলেও এবার মাদ্রাসা বোর্ডে জিপিএ-৫ বেড়েছে। এবার ৪ হাজার ৪৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২ হাজার ২৪৩ জন।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ড : কারিগরি বোর্ডের অধীনে ১ হাজার ৮৪০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১ লাখ ৩৩ হাজার ৭৪৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে শতভাগ পাশ করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ১৪৫ জন, গত বছর পেয়েছিল ৩ হাজার ২৩৬ জন।