সাশ্রয় হবে শত শত কোটি টাকা

চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিযোগিতামূলক কেনাকাটায় বছরে শত শত কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে জানিয়েছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা। বন্দরের যন্ত্রপাতি ক্রয়, স্থাপনা নির্মাণ এবং মেরামত করার ক্ষেত্রে প্রতি বছর বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বন্দর কর্তৃপক্ষ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি বা ডিপিএমের মাধ্যমে যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী ক্রয় করে থাকে। আবার উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমেও পণ্য ক্রয় ও নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে বন্দরের কিছু যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রে টেন্ডারের শর্তানুযায়ী সিঙ্গেল সোর্স বা নির্দিষ্ট উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান হওয়ায় স্থানীয় এজেন্টের মাধ্যমে ঐ প্রতিষ্ঠানেরই যন্ত্রপাতি কিনতে হয়।                 সেক্ষেত্রে সিঙ্গেল টেন্ডার জমা পড়ে। আবার জরুরি প্রয়োজনে অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। এক্ষেত্রে দেখা যায়, সরকারি কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্রয় করা হয়।

তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, একই পণ্য সরাসরি ক্রয়পদ্ধতি বা ডিপিএমের মাধ্যমে ক্রয় করতে যে খরচ হয়, সেই পণ্য উন্মুক্ত দরপত্র বা ওটিএম পদ্ধতিতে ক্রয়ের ক্ষেত্রে দামে অনেক তারতম্য দেখা যায়। চট্টগ্রাম বন্দরের যন্ত্রপাতি, বিভিন্ন ধরনের পণ্য ও মালামাল ক্রয়, বিভিন্ন বড় নির্মাণ ক্ষেত্রের অনেকগুলো ডিপিএম পদ্ধতি কিংবা সিঙ্গেল সোর্সের ওপর নির্ভর করতে দেখা গেছে। এতে বন্দরের পণ্য ক্রয় নির্মাণ ব্যয়, প্রকল্প ব্যয় এবং টেন্ডার ডকুমেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে প্রাক্কলিত এবং সময় নির্ধারণেও অনেক তারতম্য লক্ষ করা যায়। পণ্য ক্রয় বা প্রকল্প ব্যয় ধরার পর ডিপিএম এবং ওটিএম পদ্ধতির ব্যয়েও অনেক তারতম্য লক্ষ করা যায়।

চট্টগ্রাম বন্দরে সম্প্রতি কয়েকটি উন্মুক্ত দরপদ্ধতি বা ওটিএম পদ্ধতির টেন্ডার ডকুমেন্ট অনুযায়ী প্রাক্কলিত ব্যয় এবং ওটিএম পদ্ধতিতে টেন্ডার আহ্বান করার পর বাস্তব খরচ লক্ষ করা যায়। বন্দরের জেটি এলাকায় খালি কনটেইনার পরিবহন ব্যয়সংক্রান্ত বন্দরের নির্দিষ্ট কমিটি কর্তৃক তৈরিকৃত ডকুমেন্ট অনুযায়ী প্রাক্কলিত ব্যয়ের সঙ্গে টেন্ডারের সর্বনিম্ন দরদাতার দর অনেক কম দেখা যায়। চট্টগ্রাম বন্দরে আসা অনেক পণ্যবাহী কনটেইনার খালি হওয়ার পর কনটেইনারসমূহ নির্দিষ্ট ইয়ার্ডে রাখা হয়। ঐ খালি কনটেইনারসমূহ পরিবহনের জন্য ২০১৪ সাল থেকে প্রাইভেট অপারেটর কাজ করে আসছে। ২০১৪ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বেসরকারি ঐ প্রতিষ্ঠান ১১৬ কোটি টাকায় উক্ত খালি কনটেইনার পরিবহনে কাজ করে।

এরই মধ্যে ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে পরবর্তী টেন্ডারের ডকুমেন্ট তৈরি করা হয়। তাতে দেখা যায়, একই সময়ের জন্য ঐ পরিমাণ খালি কনটেইনার পরিবহনে প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয় প্রায় ২০৯ কোটি টাকা। ঐ সময় টেন্ডার আহ্বান করা হলে দুটি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। কিন্তু ঐ দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আদালতে মামলার কারণে টেন্ডার বাতিল হয়ে যায়।

পরে আদালতের নির্দেশে বন্দরের নতুন কর্মকর্তাদের নিয়ে টেন্ডার ডকুমেন্ট তৈরি করার নির্দেশের পরিপ্রক্ষিতে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। নতুন কমিটি কর্তৃক তৈরিকৃত টেন্ডার ডকুমেন্ট অনুযায়ী প্রাক্কলন ব্যয় নির্ধারণ হয় ১৫৭ কোটি টাকা। বন্দর কর্তৃপক্ষের একজন সদস্যকে প্রধান করে তৈরিকৃত টেন্ডার ডকুমেন্ট অনুযায়ী টেন্ডার আহ্বান করা হলে সম্প্রতি দুটি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। এতে সর্বনিম্ন দরদাতার দর ছিল ১১৫ কোটি টাকা। যা মূল্যায়ন কমিটি কর্তৃক সুপারিশ করে অনুমোদনের জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এক্ষেত্রেও দেখা যায়, বন্দরের নির্দিষ্ট কমিটি কর্তৃক যে প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয়েছিল তার চেয়ে দরদাতা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দর ৪২ কোটি টাকা কম।