যারা ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছিল, সবাই এবার পাশ করেছে। এ কারণে যাদের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য ভালো প্রস্তুতিও ছিল না তারা উচ্ছ্বসিত। জেএসসির ২৫ শতাংশ ও এসএসসির ৭৫ শতাংশ নম্বর নিয়ে সাবজেক্ট ম্যাপিং করার কারণে শুধু পাশ নয়, জিপিএ-এর সংখ্যাও বেড়েছে।
এই সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের কারণে ভাগ্য খুলেছে ১৭ হাজার শিক্ষার্থীর। কারণ এরা জেএসসি ও এসএসসিতে জিপিএ-৫ না পেয়েও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে। তবে দুর্ভাগ্য ৩৯৬ শিক্ষার্থীর। জেএসসি ও এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পায়নি এরা। ৩৯৬ শিক্ষার্থীর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে ৯৮ ও রাজশাহী বোর্ডে ৮০। বাকিরা অন্য বোর্ডের। কেন এমন হলো, এমন প্রশ্ন সবার।
এছাড়া কেউ হয়তো এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগে পড়েছিল। কিন্তু উচ্চমাধ্যমিকে গিয়ে বিভাগ পরিবর্তন করে মানবিক বা ব্যবসায় শিক্ষায় পড়েছে। এই শিক্ষার্থীর এইচএসসির ফল মূল্যায়ন হলো কীভাবে? কারণ, বিষয় পরিবর্তন হয়েছে। আবার জেএসসিতে যেসব বিষয় পড়েছেন, তার সবগুলো হয়তো এসএসসি বা এইচএসসিতে ছিল না। এসব পরীক্ষার্থীর ফল কীভাবে মূল্যায়ন হলো?
শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, করোনার কারণে পরীক্ষা না হওয়ায় এবার জেএসসি এবং এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার বিষয় ‘ম্যাপিং’ করে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের ফল মূল্যায়ন করা হয়েছে। যদিও শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, জেএসসি ও এসএসসি দুটোতে জিপিএ-৫ পেয়েও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পায়নি ২০১৯ সালে এ সংখ্যা ছিল ৪৫ হাজার ৮৬৫ জন। ২০১৮ সালে ৫২ হাজার ৬৩৪ জন। সে হিসেবে এমন ধরনের শিক্ষার্থীর সংখ্যা খুবই কম।
জেএসসি ও এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ না পাওয়ার কারণ হিসেবে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের আহ্বায়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদ বলেন, অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা এসএসসিতে শুধু ৮০ নম্বর পেয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে। তার এই নম্বর যখন ট্রান্সফার করে ৭৫ শতাংশ নিয়ে আসা হয়েছে, তখন তার ওই নম্বরটি হয়তো বা ৭৭, ৭৮ বা ৭৯-এ চলে এসেছে। একই রকম জেএসসির নম্বর যখন ২৫-এ কনভার্ট করা হয়েছে, তখনো শতাংশ বিবেচনায় নিচে চলে যায়। এ কারণে জেএসসি বা এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পায়নি কোনো কোনো শিক্ষার্থী।
আরও পড়ুন: পরীক্ষায় সবাই পাস, তবুও নেই উল্লাস
ঢাকা বোর্ডের সিস্টেম এনালিস্ট মঞ্জুরুল কবীর জানান, আগের দুই পরীক্ষায় যারা চতুর্থ বিষয়ের জিপিএ মিলিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন, তাদের কেউ কেউ এবার পদ্ধতিতে মূল্যায়নের ফলে পূর্ণাঙ্গ জিপিএ পাননি।
পরীক্ষা ছাড়াই নম্বর দেওয়া হলো যেভাবে: মহামারিকালে পরীক্ষা ছাড়াই আগের পরীক্ষার ভিত্তিতে এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল তৈরিতে সাবজেক্ট ম্যাপিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। জেএসসি ও সমমান পরীক্ষার ২৫ শতাংশ এবং এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ৭৫ শতাংশ বিষয়ভিত্তিক নম্বর বিবেচনা করে গতবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল নির্ধারণ করা হয়েছে। জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার আবশ্যিক বাংলা, ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ের নম্বরের ২৫ শতাংশ এবং এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার আবশ্যিক বাংলা, ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ের নম্বরের ৭৫ শতাংশ বিবেচনা করে এইচএসসিতে আবশ্যিক বাংলা, ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ের নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞান বিভাগ: বিজ্ঞান বিভাগের ক্ষেত্রে জেএসসি ও সমমান পরীক্ষার গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ে প্রাপ্ত গড় নম্বরের ২৫ শতাংশ এবং এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন ও উচ্চতর গণিত/জীববিজ্ঞান বিষয়ের ৭৫ শতাংশ নম্বর বিবেচনা করে যথাক্রমে এইচএসসির পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন ও উচ্চতর গণিত/জীববিজ্ঞান বিষয়ের নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ: এই বিভাগের ক্ষেত্রে জেএসসি ও সমমান পরীক্ষার গণিত ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে প্রাপ্ত গড় নম্বরের ২৫ শতাংশ ও এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার গ্রুপভিত্তিক তিনটি সমগোত্রীয় বিষয়ের ৭৫ শতাংশ নম্বর বিবেচনা করে যথাক্রমে এইচএসসি এর ব্যবসায় শিক্ষা গ্রুপের তিনটি সমগোত্রীয় বিষয়ের নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: জিপিএ-৫: এবার এগিয়ে ছাত্রীরা
মানবিক ও অন্যান্য বিভাগ: মানবিক ও অন্যান্য বিভাগের ক্ষেত্রে জেএসসি ও সমমান পরীক্ষার গণিত ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে প্রাপ্ত গড় নম্বরের ২৫ শতাংশ এবং এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার গ্রুপভিত্তিক পর পর তিনটি বিষয়ের ৭৫ শতাংশ নম্বর বিবেচনা করে যথাক্রমে এইচএসসির মানবিক ও অন্যান্য গ্রুপের তিনটি বিষয়ের নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
গ্রুপ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে: জেএসসি ও সমমান পরীক্ষার গণিত ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে প্রাপ্ত গড় নম্বরের ২৫ শতাংশ ও এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার গ্রুপভিত্তিক পর পর তিনটি বিষয়ের ৭৫ শতাংশ নম্বর বিবেচনা করে যথাক্রমে এইচএসসির মানবিক ও অন্যান্য গ্রুপের তিনটি বিষয়ের নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/এমআর