ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছরের নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল মেনে নেননি। ভোট জালিয়াতির মাধ্যমে তাকে হারানো হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বারবার। নিজের সিদ্ধান্তে অটল থেকে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠানে ছিলেন না।
বরং চার বছর পর আবারও প্রেসিডেন্ট হিসেবে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান নেতা কেভিন ম্যাককার্থি ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় থাকবেন। বর্তমানে কংগ্রেসের দুই কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করবেন।
গত ৬ জানুয়ারি কংগ্রেসের ভবন ক্যাপিটলে ট্রাম্প-সমর্থক ও কট্টর ডানপন্থিদের হামলার ঘটনায় ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে রিপাবলিকান পার্টির মধ্যে বিভক্তির তৈরি হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্পকে দ্বিতীয়বারের মতো অভিশংসিত করতে ডেমোক্র্যাট সদস্যদের সঙ্গে ভোট দিয়েছেন ১০ রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যানও। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি সিনেটে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন বিচার শুরু হবে। সেখানে ট্রাম্পর্কে দোষী সাব্যস্ত করতে দুই-তৃতীয়াংশ সিনেটরের সমর্থন লাগবে। সেক্ষেত্রে রিপাবলিকান পার্টির ৫০ জনের মধ্যে ১৭ জন সিনেটরকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভোট দিতে হবে।
কিন্তু সম্প্রতি সিনেটে ট্রাম্পের বিচার আটকানোর এক প্রস্তাবে ৪৫ জন রিপাবলিকান সিনেটর ভোট দিয়েছেন। এতে স্পষ্ট হয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ক্যাপিটলে হামলায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে সিনেটে দোষী সাব্যস্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট না থাকলেও রিপাবলিকান পার্টিতে তার এখনো বড় প্রভাব রয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে তার বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া রিপাবলিকান নেতারা এখন চাপের মুখে আছেন। ভবিষ্যত্ নির্বাচনে বিপর্যয়ের ভয়ে অনেক রিপাবলিকান নেতা ট্রাম্পের বিপক্ষে কথা বলছেন না। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৪ সালে আবারও প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হতে চান। ইতিমধ্যে রিপাবলিকান সমর্থকদের অধিকাংশ এই অভিমত দিয়েছে।
এদিকে দীর্ঘদিন পর কংগ্রেসের দুই কক্ষ সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। একই সঙ্গে হোয়াইট হাউজে রয়েছেন তাদের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ থাকায় সরকার পরিচালনা, বড় সিদ্ধান্ত ও নীতির অনুমোদন করানো বাইডেনের জন্য সহজ হবে। এ অবস্থায় বাইডেনকে চাপে রাখতে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া রিপাবলিকানরা। এ জন্য ট্রাম্পকে নেতৃত্বে রেখে সামনে এগোতে চায় তারা।
২০২২ সালের ৮ নভম্বের যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন হবে। তখন প্রতিনিধি পরিষদের সবকটি আসন এবং সিনেটের ৩৪টি আসনে নির্বাচন হবে। ৪৩৫ আসনের হাউজে নিয়ন্ত্রণ নিতে ২১৮টি আসন প্রয়োজন। বর্তমানে ২২১টি আসনে ডেমোক্র্যাট এবং ২১১টি আসনে রিপাবলিকানরা রয়েছে। তিনটি আসন এখন ফাঁকা রয়েছে। আর সিনেটে এখন দুই দলের আসন সংখ্যা সমান ৫০-৫০।
সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে মাত্র একটি আসন দরকার রিপাবলিকানদের। ২০২২ সালের নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে তারা লড়তে পারলে নিয়ন্ত্রণ পাওয়া সম্ভব বলেই বিশ্বাস করেন রিপাবলিকানরা। গত সপ্তাহে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান নেতা কেভিন ম্যাককার্থি বলেন, বিভক্তি নয় বরং ঐক্যবদ্ধভাবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি।
ইত্তেফাক/এএইচপি