হেলেঞ্চা-গারুড়িয়া সড়কে কার্পেটিং উঠে খানাখন্দ

বাকেরগঞ্জ তুলাতলী ব্রিজের উত্তর পাড়ের ঢাল হেলেঞ্চা থেকে গারুড়িয়া বাজার পর্যন্ত এলজিইডির প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পাকা সড়কের কার্পেটিং ও পিচ উঠে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। এতে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে উপজেলা সদরের তুলাতলী ব্রিজের ঢাল থেকে গারুড়িয়া বাজার পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাকা সড়ক নির্মাণ করা হয়।

উপজেলার ১০ ইউনিয়নবাসীর চলাচলের কারণে সড়কটির গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। এ সড়কে চলাচলকারী পেয়ারপুরের ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন বলেন, এ সড়ক দিয়ে মুমূর্ষু কোনো রোগীকে উপজেলা কিংবা জেলা শহরে যানবাহনে করে চিকিত্সার জন্য নিতে হলে ঝাঁকুনিতে রোগীর অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যায়। বাসচালক স্বপন বলেন, সড়কটি মেরামত না করায় অনেক দিন ধরেই এ পথে বাস চালাতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। পাঁচ কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিতে দ্বিগুণ সময় লাগছে। তার পরও কখনো কখনো বাসের চাকা গর্তে পড়ে যায়। বিকল্প পথ না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে।

কাঁচামাল ব্যবসায়ী খোকন মিয়া বলেন, আগে শহর থেকে কাঁচামাল কিনে আনতে মণপ্রতি যে ভাড়া দিতে হতো এখন রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভাড়া দ্বিগুণ হয়েছে। অটোরিকশাচালক আবদুস সালাম বলেন, সড়ক যখন ভালো ছিল লোকজন অটোরিকশায় চলাচল করত। এখন সড়কের অবস্থা বেহাল হওয়ায় কেউ আর অটোরিকশায় চলাচল করতে চায় না। মালামালও বহন করা যায় না। গর্তের মধ্যে চাকা আটকে ভেঙে যায়, মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনাও ঘটে।

উপজেলার গারুড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান জুলফিকার হায়দার বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরেই যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। তাছাড়া সড়ক সংস্কারের বিষয়টি নিয়ে প্রতি মাসেই উপজেলা পরিষদের সমন্বয় কমিটির সভায় আলোচনা করেছি। অথচ চার বছর ধরে কোনো কাজ হচ্ছে না। এতে এলাকাবাসীর কাছে আমাদের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী আবুল খায়ের মিয়া বলেন, চলতি অর্থবছরে জিওবি মেরামত প্রকল্পে সাতটি প্রাক্কলন পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে ছয়টির বরাদ্দ পাওয়া গেছে। পরবর্তী সময়ে ঐ সড়কটির সংস্কার কাজসহ প্রশস্ত ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পে ধরা আছে। বরাদ্দ এলেই কার্যক্রম শুরু করতে পারব বলে আশা করি।

ইত্তেফাক/এএএম