ভাগ্য বদলানোর কথা বলে বিদেশ পাঠানোর নামে প্রতারণার অভিযোগে মানবপাচারকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। বিদেশ যেতে ইচ্ছুক স্বল্প শিক্ষিত লোকদের টার্গেট করতো এই চক্রটি। তারা ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে আস্থা অর্জনের চেষ্টা করতো।
গ্রেফতার দুজন হলেন- জালিস মাহমুদ (৩২) ও অমল জয়ধর (৪১)। তাদের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা, ৭১টি পাসপোর্ট, মালয়েশিয়ার ১১টি জাল ভিসা, ফ্রান্সের তিনটি জাল ভিসা, ভুয়া বিএমইটি ছাড়পত্রের ফটোকপি ২৪টি, ভুয়া মেডিক্যাল সার্টিফিকেট ৮টি, বিমানের ভুয়া ১০টি টিকিট জব্দ করা হয়।
আরও পড়ুন: মানবপাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত দুই বিদেশি এয়ারলাইন্স: সিআইডি প্রধান
সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর পল্লবী এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে সিআইডি ঢাকা মেট্রো পশ্চিমের একটি টিম।। পরে দুপুরে মালিবাগে সিআইডি প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করে অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক চক্রটির বিস্তারিত তথ্য সাংবাদিকদের জানান।
সিআইডি জানিয়েছে, চক্রটির একটি বিশেষ দল জাল টিকিট, ভিসা ও বিএমইটি কার্ড তৈরি করতো। বিএমইটি কার্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কারও যোগসূত্র রয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখছে সিআইডি।
সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, ভুক্তভোগীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এসএম এন্টারপ্রাইজ নামে ভুয়া রিক্রুটিং এজেন্সির পরিচালক জালিস মাহমুদ ও ফিল্ড অফিসার অমল জয়ধরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান রিপন মাহমুদ এখনও পলাতক। তাকে ধরতে অভিযান চলছে। বর্তমানে বনানীতে প্রতিষ্ঠানটির ভাড়া করা রুম থাকলেও নেই কোন কর্মচারী কর্মকর্তা। সবাই গা ঢাকা দিয়েছে।
ভুক্তভোগীদের বরাত দিয়ে ওমর ফারুক বলেন, ২০১৯ সালের মে মাস থেকে বিদেশে লোক পাঠানোর নামে এই চক্রটি এখন পর্যন্ত ৬৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ২৫ জন ভুক্তভোগী সিআইডিতে অভিযোগ করেছেন।
আরও পড়ুন: ভাগ্য বদলানোর আশায় মানবপাচারকারীর জালে স্বল্প শিক্ষিতরা
ভুক্তভোগীরা জানান, ভাগ্য বদলানোর জন্য মালয়েশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার জন্য নিজেদের সম্পদ বিক্রি করেছেন তারা। বিমানবন্দরের যাওয়ার পর তারা বুঝতে পারেন প্রতারণার শিকার হয়েছেন। পরে এসএম এন্টারপ্রাইজের যোগাযোগ করে টাকা ফেরতের বিষয়ে কথা বলতে গেলে তারা বারবার সময় দেন। কিন্তু টাকা ফেরত দেয়রি। এছাড়া বিভিন্ন সময় তাদের রিক্রুটিং এজেন্সি থেকে ভয়-ভীতি দেখান হয় বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
বনানী থানায় তাদের বিরুদ্ধে মানবপাচার প্রতিরোধ আইনে করা মামলায় গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।
ইত্তেফাক/কেএইচ/জেডএইচ