পরজীবী উদ্ভিদ। অন্যান্য গাছের সঙ্গে এদের প্রধান পার্থক্য হচ্ছে এরা জন্ম ও বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে সাধারণত আরেকটি গাছের ওপর নির্ভরশীল। মান্দা, বান্ধা, ফারুল্লা ইত্যাদি স্থানীয় বিভিন্ন নাম থাকলেও সাধারণত ধাইরা নামেই পরিচিত। এর প্রিয় আবাস পরিণত আমগাছ। কখনো কখনো মেঘশিরীষ, মেহগনি, রাবারবট বা কাঁঠাল গাছেও দেখা যায়। ফুল ফোটার সময় ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল।
প্রকৃতিতে শীতের আবহ শুরু হলেই উজ্জ্বল লাল, কমলা, হলুদ রঙের ফুলগুলো ফুটতে শুরু করে। কাষ্ঠল লতা। গুচ্ছমূল আশ্রয় আঁকড়ে থাকে। পাতা পুরু ও বিপ্রতীপভাবে বিন্যস্ত। ফুল গুচ্ছবদ্ধ, পুষ্পনল উজ্জ্বল লাল, ওপরে মুখের কাছে সবুজ, চারটি দীর্ঘ আয়তাকার লতিযুক্ত, আড়াই থেকে সাড়ে তিন সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা, বৃতি খাটো, পরিপূর্ণভাবে বিকশিত পাপড়ি চুলের মতো সরু ও মরিচা রঙের। বংশ বৃদ্ধি পাখিদের মাধ্যমেই। পাখিরা ফল খেয়ে যেসব গাছে ঠোঁট ছোঁয়ায় সেখানেই বীজগুলো ছড়িয়ে পড়ে। ছোট ছোট ফলগুলো একটু মিষ্টি লাগে খেতে, পাখিদের পাশাপাশি ছোট বাচ্চাদেরও অনেক পছন্দের এই ধাইরা ফল। বাকল ও পাতা বিভিন্ন রোগের মহৌষধ।
মঞ্জুর মোর্শেদ রুমন