করোনার ভ্যাকসিন :কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি

সারা বিশ্বকে স্তব্ধ করে দেওয়া মহামারি কোভিড-১৯ তথা করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তির জন্য সবাই তাকিয়ে ছিল ভ্যাকসিনের দিকে। এক বছরের মধ্যেই সে কাঙ্ক্ষিত ভ্যাকসিন নাগালে পাওয়া নিঃসন্দেহে ইতিবাচক দিক। তবে টিকার কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে সন্দেহ।  কোভিড-১৯ টিকা সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি, গ্রহণযোগ্যতা এবং চাহিদা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট দেশের আট বিভাগে একটি গবেষণাকার্যক্রম পরিচালনা করে। গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রায় ৮৪ শতাংশ লোক টিকা নিতে আগ্রহী; কিন্তু বেশির ভাগ লোকই টিকাদান কর্মসূচি চালুর শুরুতেই টিকা নিতে প্রস্তুত নয়। ৩২ শতাংশ লোক টিকা প্রদানকার্যক্রম চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টিকা নিতে চায়, আর বাকি প্রায় ৫২ শতাংশ জনগণ টিকার কার্যকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কি না—সে ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে টিকা নিতে চায়। আর ১৬ শতাংশ লোক কখনোই টিকা নিতে চায় না। 

কেন এত বিশাল একটা অংশ এই মুহূর্তে টিকা নিতে আগ্রহী নয়, সে বিষয়েও উঠে আসছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই জরিপে। এই মুহূর্তে যারা টিকা নিতে চায় না, তাদের ৫৪ শতাংশ টিকার কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। তাছাড়া ৩৪ শতাংশ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে শঙ্কিত এবং ১২ শতাংশের মধ্যে আমদানি করা টিকার গুণমান নিয়ে সন্দেহ আছে বলে জানায়। যারা একেবারেই নিতে চায় না তারা টিকার মান ও কার্যকারিতা এবং পার্শ্ব ও বিরূপ প্রতিক্রিয়াকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

সন্দেহ-সংশয় দেখা দেওয়ার অন্যতম আরেকটি কারণ হচ্ছে, ভারতীয় টিকা নিয়ে খোদ ভারতেই শুরু হয়েছে নানা বিতর্ক। ভারতের যে দুইটি প্রতিষ্ঠান টিকা উত্পাদন করেছে, তারাও পরস্পরের বিরুদ্ধে নিয়ে আসছে অভিযোগ। যার ফলে জনমনে নানা রকম ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে।

টিকা নিয়ে জনগণের সন্দেহ দূরীভূত এবং সফল প্রয়োগের জন্য প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ। প্রথমত জনমনে তৈরি হওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে হবে। যেমন—ভ্যাকসিন কত দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে, ভ্যাকসিন নিলে আদৌ কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার  সম্ভাবনা আছে কি না—করোনার যেসব নতুন রূপ দেখা গেছে এসব ভ্যাকসিন দিয়ে আদৌ তাদের প্রতিহত করা যাবে কি না ইত্যাদি। আরেকটি বিষয় লক্ষ্য রাখা উচিত যে, এত বিশাল একটি অংশের সন্দেহকে অবজ্ঞা করা মোটেও ঠিক হবে না। সরকারের উচিত টিকা আপাতত সবাইকে না দিয়ে, কিছু মানুষের দেহে প্রয়োগ করে অন্তত এক মাস সময় নেওয়া। তাহলে টিকা নিয়ে যে সংশয়-সন্দেহ সেটি হয়তো কেটে যাবে। সরকার ও সংশ্লিষ্টদের যৌথ প্রচেষ্টায় এবং জনগণের আন্তরিক সহযোগিতায় করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে তৈরি হওয়া সব সন্দেহ-ভয় দূরীভূত হলে, তা আমাদের জন্য আশীর্বাদ হবে—এমনটি প্রত্যাশা।

n  লেখক :শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়