গোলাম মোস্তফা, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় বাড়ছে আবাদযোগ্য উর্বর জমি কেটে পুকুর খনন। এতে আশঙ্কাজনকহারে কমে যাচ্ছে কৃষিজমি ও কৃষি চাষ। ফসলে কাঙ্ক্ষিত লাভ না পাওয়া ও পুকুর খনন করে তুলনামূলক ঝামেলাহীন অর্থ উপার্জন করতে পারায় অনেক কৃষক পুকুর খননের দিকে ঝুঁকছেন। এসব পুকুরে তারা নিজেরা মাছ চাষ করছেন। অনেকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে মত্স্যচাষিদের কাছে লিজ দিচ্ছেন। এমনটাই জানিয়েছেন জমির মালিকরা। অন্যদিকে অপরিকল্পিতভাবে গণহারে যত্রতত্র পুকুর খনন করায় অনেক স্থানে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। ফলে অসময়ে দেখা দিচ্ছে জলাবদ্ধতা, বাড়ছে জনদুর্ভোগ। সরেজমিনে দেখা গেছে, গত শুক্রবার বিকালেও বস্তুল-ধোপাগাড়ি গ্রামীণ সড়কের মধ্যে একটি ব্রিজের মুখের সামনের আবাদযোগ্য প্রায় ছয় বিঘা উর্বর জমি ভেকু দিয়ে কেটে পুকুর খনন করা হচ্ছে। এছাড়াও পৌরসভার জাহাঙ্গীরগাতি মাদ্রাসা এলাকায় একটি, জাহাঙ্গীরগাতি গ্রামের উত্তর মাঠে দুইটি ও পশ্চিম মাঠে দুইটি, তাড়াশ-সলঙ্গা আঞ্চলিক সড়কের সঙ্গে আমশরা গ্রাম এলাকায় একটি, সোলাপাড়া গ্রামের হিন্দু পাড়া উত্তর মাঠে দুইটি, পশ্চিম সোলাপাড়ায় দুইটি, মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামের পূর্ব মাঠে দুইটি পুকুর খনন করা হচ্ছে। সগুনা ইউনিয়নের কামারশন গ্রাম এলাকাতে সরিষার আবাদ নষ্ট করে পুকুর খনন চলছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, ২০০৮ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ৯৭৫টির মতো পুকুর খনন করা হয়েছে। এতে একদশকে আবাদি জমি কমেছে ৬১৫ হেক্টর। একই সঙ্গে উপজেলায় খাদ্য উত্পাদন ব্যাপক হারে কমতে শুরু করেছে। সদর ইউনিয়নের মাধবপুর, মথুরাপুর, চক গোপিনাথপুর, বিদিমাগুড়া ও বোয়ালিয়া এলাকায় এখনো ২ হাজার বিঘা জমিতে বন্যার পানি আটকে আছে। অন্যান্য এলাকারও বিস্তীর্ণ মাঠ থেকে বন্যার পানি নামতে দেরি হওয়ায় জো না পেয়ে ২ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে রবিশস্য আবাদ করতে পারেননি কৃষক। ভুক্তভোগী কৃষক মনছুর রহমান, সুলতান মাহমুদ, ছোহরাব আলী, শামসুল হক, ছাবেদ আলী, জুরান আলী, মজিবর মল্লিক, রেজাউল করিম, জহুরুল ইসলাম, আব্দুল মোতালেব, শাহাদত হোসেনসহ অনেকে জানিয়েছেন, কতিপয় জমির মালিক হাজারো কৃষকের জীবন-জীবিকার কথা না ভেবে পুকুর কেটে মাছ চাষ করছেন। এ কারণে বন্যার পানি নামতে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। তাদের তিন ফসলি জমি এখনো কোনোটায় হাঁটুপানি। কোথাও কোমর পানিতে তলিয়ে আছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লুত্ফুননাহার লুনা বলেন, প্রতি বছরই বাড়ছে পুকুরের পরিধি। একই সঙ্গে আশঙ্কাজনক হারে কমছে আবাদযোগ্য জমি। ফলে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে। অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খননের কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে অসময়ে দীর্ঘ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। সময়মতো বোরো ও রোপা আমন ধানের আবাদ করা এবং ঘরে তোলা নিয়ে সংশয় কাটছেই না কৃষকের। এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেজবাউল করিম বলেন, তিনি যোগদানের পর যথাযথ কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করায় মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই পুকুর খনন অনেকটা কমে গেছে। অভিযান চলমান রয়েছে।