রামেক হাসপাতালের নার্সিং বিভাগের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নার্সদের বিস্তর অভিযোগ

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের নার্সিং বিভাগের সেবা তত্ত্বাবধায়ক ও উপসেবা তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম এবং কর্মরত নার্সদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে নার্সদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

নার্সিং বিভাগের প্রধান হলেন সেবা তত্ত্বাবধায়ক আনোয়ারা খাতুন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন উপসেবা তত্ত্বাবধায়ক সুফিয়া খাতুন। নার্সদের অভিযোগ, সেবা তত্ত্বাবধায়কের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন সুফিয়া খাতুন।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি রামেক হাসপাতালের এক নার্স পরপর দুই দিন এক চিকিত্সকের হাতে প্রকাশ্যে যৌন হয়রানির শিকার হলেও এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি সেবা তত্ত্বাবধায়ক। নিয়ম অনুযায়ী এ ধরনের যৌন হয়রানির ঘটনায় বিষয়টি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরকে অবহিত করার কথা আনোয়ারা খাতুন ও সুফিয়া খাতুনের। কিন্তু তারা সেটি করেননি, উলটো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। পরবর্তী সময়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর অধিদপ্তরের তোপের মুখে পড়েন ঐ দুই কর্মকর্তা। আজ মঙ্গলবারের মধ্যে তাদের ঢাকায় তলব করা হয়েছে।

এদিকে যৌন হয়রানির বিষয়টি অধিদপ্তরকে না জানানোর কারণে নার্সদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। নার্সরা এখন ঐ দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। দুর্ব্যবহার থেকে শুরু করে জানাচ্ছেন তাদের অনিয়ম আর দুর্নীতির কথাও। ভুক্তভোগীরা জানান, গত বছরের ৬ জানুয়ারি একজন সিনিয়র স্টাফ নার্সকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন উপসেবা তত্ত্বাবধায়ক সুফিয়া খাতুন। ঐ দিন ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করার সময় ওয়ার্ডে ময়লা থাকায় এক নার্সকে সবার সামনে কান ধরে ডিউটি রুমে নিয়ে যান এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। গত বছরের ১১ মে উপসেবা তত্ত্বাবধায়ক ১০ নম্বর ওয়ার্ডের আরেক সিনিয়র স্টাফ নার্সের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ করেন নার্সরা।

যেসব নার্সের শিশুরা বুকের দুধ পান করে, তাদের করোনা ওয়ার্ডে ডিউটি না দেওয়ার জন্য সরকারি নির্দেশনা থাকলেও সেই নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে ল্যাকটেটিং মাদার নার্সদের করোনার ওয়ার্ডে জোর করে ডিউটি দেন উপসেবা তত্ত্বাবধায়ক। এমন পরিস্থিতিতে এক নার্স সুফিয়া খাতুনের সঙ্গে দেখা করলে তিনি তার সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করেন এবং বলেন, বাচ্চা দেখার দায়িত্ব নার্সিং সুপারের, অফিসের নয়। বাধ্য হয়ে ঐ নার্সকে ২৮ নম্বর ওয়ার্ডেই দায়িত্ব পালন করতে হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, করোনাকালে নার্সদের ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে রাখার সময় তাদের প্রত্যেকের জন্য আলাদা ব্যবহার্য জিনিসপত্র সরবরাহের নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হয়নি। এছাড়া নার্সরা হোস্টেলে না থেকে বাড়ি থেকে করোনা ওয়ার্ডে ডিউটি করলে ১ হাজার টাকা করে সম্মানী পাওয়ার কথা থাকলেও করোনা ওয়ার্ডে রোগী না থাকলে সেই দিনের জন্য নার্সদের সম্মানী দেওয়া হয়নি।

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের নির্দেশনা রয়েছে—স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কোনো নার্সের বদলি, পদোন্নতি বা অন্য কোনো দায়িত্বে পদায়ন করতে পারবে না। কিন্তু আনোয়ারা খাতুন ও সুফিয়া খাতুন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে তাদের পছন্দ অনুযায়ী ১০ জনকে তাদের অফিসে নার্সিং সুপারভাইজার হিসেবে পদায়ন করেছেন বলেও তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। গত বছরের ২৬ আগস্ট হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) এক অফিস আদেশে ১০ জন নার্সকে সুপারভাইজার হিসেবে পদায়ন করেছেন।

হাসপাতালের সেবা তত্ত্বাবধায়ক আনোয়ারা খাতুন অনিয়মের অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘পদে তো আমিই বড়। আমার চেয়ে তো তিনি (সুফিয়া) বড় নন। তবে আমি তার সহযোগিতা নিই। তাকে দিয়ে সব কাজ করানোর বিষয়টি সঠিক নয়। কাউকে অপদস্থ করার বিষয়টিও সঠিক নয়।’ নার্সদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার প্রসঙ্গে উপসেবা তত্ত্বাবধায়ক সুফিয়া খাতুন বলেন, ‘এসব মিথ্যা কথা। আমি কারো সঙ্গে দুর্ব্যবহার করি না।’