প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে খুলনায় একটি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য সংসদে ‘শেখ হাসিনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিল-২০২১’ পাশ হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক গতকাল সোমবার সংসদে বিলটি পাশের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাশ হয়। এর আগে বিলের ওপর দেওয়া জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলোর নিষ্পত্তি করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
বিলটির ওপর বিরোধী দলের সদস্যদের বিভিন্ন প্রস্তাব ও সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে প্রসঙ্গক্রমে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক বলেন, আমরা সবচেয়ে কম দামে করোনার ভ্যাকসিন পেয়েছি। চুক্তিতে আছে ভারত যে দামে টিকা নেবে আমাদেরও সেই দামে দেবে। ত্রিপক্ষীয় চুক্তি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডেন্স অনুযায়ী আমরা ‘করোনা ফেইজ আউট’ পর্যায়ে চলে আসছি। আমাদের এখন ৩ শতাংশ সংক্রমণের হার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডেন্সে বলে সংক্রমণের হার ৩ শতাংশের নিচে যখন আসতে থাকে তখন করোনা আস্তে আস্তে দেশ থেকে ফেইজ আউট হয়ে যায়।
জানা গেছে, খুলনায় শেখ হাসিনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হলে দেশে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা হবে পাঁচটি। এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে খুলনা অঞ্চলের মধ্যে যত মেডিক্যাল কলেজ, নার্সিং ইনস্টিটিউট বা অন্যান্য চিকিত্সা সংক্রান্ত ইনস্টিটিউট আছে সবই খুলনা শেখ হাসিনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলে আসবে। বিলে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, এক্তিয়ার এবং ক্ষমতার বিষয়ে বিস্তারিত বলা হয়েছে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে চিকিত্সাশাস্ত্রে মানোন্নয়নে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, আধুনিক জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্র সম্প্র্রসারণের লক্ষ্যে সময়ের প্রয়োজনে এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা অতি প্রয়োজনীয় ও যুক্তিযুক্ত।
বিলের ওপর দেওয়া জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলো উত্থাপনের সময় বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা) এবং বিএনপির সংসদ সদস্যরা স্বাস্থ্য খাতের সমালোচনা করেন। বিএনপির হারুনুর রশীদ বলেন, নাম ও কামের মিল থাকতে হবে। বঙ্গবন্ধুর নামে যে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়টি হয়েছে, সেটি কোনো গ্রেডেই নেই। দলীয় পরিচয়ে নিয়োগ করা হয়। তিনি বলেন, মন্ত্রী ১১২টি মেডিক্যাল কলেজের তথ্য দিলেন। কিন্তু এর কোয়ালিটি কী? সংখ্যা দিয়ে কী করব, যদি মান না থাকে? করোনার ভ্যাকসিন কত দামে কিনলাম? বাণিজ্য হচ্ছে কি না জানা দরকার। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দুর্নীতির ডিপো হয়ে গেছে।
এসব কথার জবাব দিতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, স্বাস্থ্য খাতের অনিয়মের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, চিকিত্সা সুরক্ষা আইন খুব তাড়াতাড়ি সংসদে আনব। অনেকে বলে করোনায় অব্যবস্থা। কেউ কিছুই জানত না। যখন জানা গেল ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। করোনাকালে রোগীর পেছনে প্রতিদিন ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। যারা আইসিইউতে ছিল, তাদের প্রত্যেকের জন্য প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা খরচ করেছে সরকার । আমরা কারো ক্ষেত্রেই ছাড় দেইনি।