তিন বছর আগে সম্পদের হিসাব বিবরণীর মামলা থেকে অব্যাহতি পান স্বাস্থ্য খাতের আলোচিত ঠিকাদার মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু। স্বাস্থ্য খাতে তার দুর্নীতির সংশ্লিষ্টতা নিয়ে সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে মিঠুর অব্যাহতির আদেশ চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয় হাইকোর্টে।
রিটকারীর লিগ্যাল নোটিশের জবাবে এখন দুদক বলছে, মামলা থেকে মিঠুকে অব্যাহতিসংক্রান্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) বিশেষ আদালত গ্রহণ করায় দুদকের পক্ষে করণীয় কিছু ছিল না। তবে ভবিষ্যতে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে এর ভিত্তিতে দুদক অনুসন্ধান কিংবা তদন্ত করবে। এছাড়া আদালত যদি দুদকের প্রতি কোনো নির্দেশনা দেয়, সে অনুযায়ী কমিশন অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
দুদকের দাখিলকৃত জবাবের ওপর বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে আগামী বৃহস্পতিবার শুনানি হবে।
লিগ্যাল নোটিশের জবাবে দুদক আরো বলছে, স্বাস্থ্য খাতে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে দুটি ফাইলে কমিশনের অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম চলছে। এই কার্যক্রমে মিঠুর বিরুদ্ধে অনিয়মে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রংপুরের গঙ্গাচড়ার মহীপুরে তিস্তা নদীর পারে মিঠুর বাড়ি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্বাস্থ্য খাতের ঠিকাদারিতে যুক্ত ছিলেন। ঠিকাদারি করে হয়েছেন অনেক ভূসম্পত্তির মালিক। করোনা মহামারিতে স্বাস্থ্য খাতের দুর্বলতার প্রকট চিত্র বেরিয়ে আসে। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) সাবেক এক পরিচালক সরকারকে চিঠি দিয়ে বলেন, স্বাস্থ্য খাতের কেনাকাটায় অপ্রতিরোধ্য দুর্নীতির কারণ ‘মিঠু চক্র’। এরপরই স্বাস্থ্য খাতের নানা অনিয়মের ঘটনা অনুসন্ধানে নামে দুদক। বিষয়টি টের পেয়ে বিদেশে পাড়ি জমান মিঠু।
এদিকে সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না করার অভিযোগে ২০১৬ সালে মিঠুর বিরুদ্ধে বনানী থানায় মামলা করে দুদক। তদন্ত শেষে পরের বছর চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ঐ প্রতিবেদন আমলে নিয়ে ২০১৮ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকার বিশেষ আদালত মামলার অভিযোগ থেকে মিঠুকে অব্যাহতি দেয়। এই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে গত অক্টোবরে হাইকোর্টে রিট করেন মো. মনিরুজ্জামান নামে এক ব্যক্তি। এতে মিঠুর বিরুদ্ধে পুনরায় অভিযোগ তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়। একই সঙ্গে লিগ্যাল নোটিশও দেওয়া হয় কমিশনকে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৪ জানুয়ারি হলফনামা আকারে দুদক লিখিত বক্তব্য দাখিল করে হাইকোর্টে।