‘নৌকা’ প্রতীকে ভোট করে এমপি হয়ে কেউ কেউ এখন বিরোধী দলের আসনে বসেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ। রাষ্ট্রপতির ভাষণে ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর গতকাল সোমবার সংসদে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টির (জাপা) সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। ভোটের প্রতি জনগণের অনীহা গণতন্ত্রের জন্য ভালো নয়। আর সরকারদলীয় হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, প্রতিটি আসনে একাধিক তৃণমূল নেতার কাছ থেকে টাকা নিয়ে বিদেশে পাচার করে বিএনপি নিজেদের প্রার্থীদের পঙ্গু করে দিয়েছে।
বিএনপির হারুন তার বক্তব্যে বলেন, ‘এই সংসদে কি বিরোধী দল আছে? বিরোধী দল বলতে গেলে রাশেদ খান মেনন ও হাসানুল হক ইনু। আবার তারাই বলছেন, ফরমায়েশি বিরোধী দল দিয়ে সংসদ কার্যকর করা যাবে না। আজকে যখন আমরা কথা বলি, তার কাউন্টার দেওয়া হয় বিরোধী দলের চেয়ার থেকে। অথচ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এই বিরোধী দলের কোনো প্রার্থী আছে? বাইরে সরকার এবং এই বিরোধী দল একাকার। ১৯৮৮ সালেও এরশাদ সংসদে একটি গৃহপালিত বিরোধী দল তৈরি করেছিলেন। ২০১৮-এর নির্বাচনের পর একটি দলকে বিরোধী দলে বসানো হলো। একই সঙ্গে ‘নৌকা’ প্রতীক নিয়ে যারা ভোট করলেন, তাদেরও কেউ কেউ এখন বিরোধী দলের চেয়ারে, এটা হয়!’
হারুন বলেন, দেশে নির্বাচন নামে কোনো সংস্কৃতি নেই। নির্বাচনের নামে প্রহসন ও তামাশা হচ্ছে। একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক বিরোধ রয়েছে। নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী আড়াই শ প্রার্থী আদালতে মামলা করেছেন। এই সংসদের মেয়াদ শেষ হবে, কিন্তু এসব মামলার শুনানি শেষ হবে না। তিনি বলেন, ১৪ দলের শরিক নেতা রাশেদ খান মেনন বলেছিলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি জনগণ ভোট দিতে পারেনি। আলোচিত আব্দুল কাদের মির্জা বলেছেন, বৃহত্তর নোয়াখালীতে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে দুই-তিনটি আসন ছাড়া যারা আজকে সংসদ সদস্য আছেন, তারা পালানোর দরজা খুঁজে পাবেন না।
হারুন আরও বলেন, বিদেশে কত লাখ টাকা পাচার হচ্ছে সে বিষয়গুলো আলোচনার মধ্যে নেই। নতুন শিশু ৩০ হাজার টাকার অধিক ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে জন্মগ্রহণ করছে। উন্নয়নের নামে জাতীয় লুটপাট হচ্ছে। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারব্যবস্থা আজ ধ্বংস। সেখানে সরকার যাদের মনোনয়ন দিচ্ছে তারাই নির্বাচিত হচ্ছেন। স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলো এখন দুর্নীতির আখড়া। নষ্ট রাজনীতি নষ্ট মানুষ তৈরি করে। দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি দুর্নীতিবাজ তৈরি করে।
রাষ্ট্রপতির ভাষণে ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে জাপার ব্যারিস্টার আনিস বলেন, নির্বাচনি ব্যবস্থায় আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। ভোটারের অংশগ্রহণ ২৪ শতাংশে নেমে আসছে। আমরা যখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলি, সেই চেতনার সবচেয়ে শক্তিশালী স্তম্ভ হচ্ছে গণতন্ত্র, সেই গণতন্ত্র নির্বাচন ছাড়া হতে পারে না। তিনি বলেন, আইনের শাসনকে যদি সত্যিকারভাবে প্রতিষ্ঠা করতে না পারি, এদেশে উন্নয়নের ধারা ধরে রাখা যাবে না। পাপুল আমাদের একজন সংসদ সদস্য। তাকে কুয়েতে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আমাদের দেশের টাকা তো ওখানে এমনি চলে যায়নি। কীভাবে গেল, কারা নিল—এই তদন্তগুলো হচ্ছে না।
আনিসুল ইসলাম মাহমুদ আরো বলেন, আজকে নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। আমেরিকায় কী দেখতে পাচ্ছেন? যুক্তরাষ্ট্রে সুন্দর নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু একজন ট্রাম্প মিথ্যাচারের মধ্য দিয়ে সেটির বিশ্বস্ততা কেড়ে নিয়েছে। সেই বিশ্বস্ততা না থাকার কারণে আজকে প্রশ্ন উঠেছে বাইডেন বৈধ কি অবৈধ। ভালো নির্বাচন, কিন্তু অর্ধেক মানুষ বিশ্বাস করছে না প্রপাগান্ডার কারণে। সুতরাং বিশ্বস্ততার সঙ্গে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ফেরাতে হবে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন না। খালেদা জিয়া যখন সংসদনেতা ছিলেন, তখন তিনি সংসদে থাকতেন না। উনি সংসদীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন না। দুর্নীতিতে যারা পাঁচ বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ছিলেন, তাদের মুখে যখন দুর্নীতির অভিযোগ শুনি, তখন হাসি ছাড়া কিছু পায় না।