গণস্বাস্থ্যের গবেষণা

দেশে দক্ষিণ আফ্রিকার সদৃশ করোনা ভাইরাস শনাক্ত

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের গবেষণায় বাংলাদেশে দক্ষিণ আফ্রিকার সদৃশ নতুন করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। গতকাল সোমবার ধানমন্ডিতে গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এই তথ্য জানানো হয়।

মতবিনিময় সভায় গবেষকরা জানান, বাংলাদেশে দক্ষিণ আফ্রিকার করোনা ভাইরাস সদৃশ মিউটেশন পাওয়া গেছে। মিউটেশন যে কোনো ভাইরাসের সাধারণ একটি বৈশিষ্ট্য। ভাইরাস প্রতিনিয়ত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে। একই সঙ্গে ভাইরাস উত্পাদনকারী কোম্পানিগুলোকেও করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিনের চরিত্র পরিবর্তন করতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব ভ্যাক্সিনেশন অতিদ্রুত শেষ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে গবেষকরা বলেন, যত দ্রুত আমরা জনগণকে টিকা দিতে পারব তত তাড়াতাড়ি কোভিড-১৯ জনিত রোগ ছড়িয়ে পড়া বাধাগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে করোনা ভাইরাসের মারাত্মক কোনো মিউটেশনের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করা সম্ভব হবে।

গবেষকরা আরও জানান, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র সমমনা প্রতিষ্ঠানকে সঙ্গে নিয়ে কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। গণস্বাস্থ্য-আরএনএ মলিকুলার ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের দক্ষ গবেষকরা প্রাপ্ত ক্লিনিক্যাল নমুনা থেকে সার্স কোভ-২ ভেরিয়েন্টের সম্পূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্স করেছেন।

সভায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, শুধু ব্যবসায়ীদের দিকে নয়, সরকারকে গবেষণার দিকেও নজর দিতে হবে। গবেষণার দিকে নজর দিলে করোনা ভাইরাস বিয়য়ে ব্যাপক আকারে গবেষণা করা যাবে। বাংলাদেশের তরুণ গবেষকরা যতগুলো ভ্যাকসিনের নাম শুনেছেন বাংলাদেশে ছয় মাসের মধ্যে সবগুলো তৈরি করা সম্ভব।

মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন গণস্বাস্থ্য সামাজিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগের প্রধান ডা. অধ্যাপক মামুন মোস্তাফী, বিভাগীয় প্রধান মাইক্রোবায়োলজি ড. মাহবুবুর রহমান, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রায়েদ জমিরউদ্দিন, বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. নীহাদ আদনান, গণস্বাস্থ্যের করোনা কীটের সমন্বয়ক ড. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার প্রমুখ।

ইত্তেফাক/এমআর