আজ ২ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার ‘জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস-২০২১’। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে—‘টেকসই উন্নয়ন-সমৃদ্ধ দেশ : নিরাপদ খাদ্যের বাংলাদেশ’। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)-এর কার্যক্রম সর্বসাধারণকে অবহিতকরণ এবং নিরাপদ খাদ্য উত্পাদন ও সরবরাহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বিষয়ে সর্বস্তরে জনসচেতনতা বৃদ্ধিই এ দিবসের প্রধান লক্ষ্য। নিরাপদ খাদ্যের অন্যতম প্রধান শর্ত ট্রান্সফ্যাটমুক্ত খাবার। এ লক্ষ্যে সংস্থাটি সবধরনের ফ্যাট, তেল এবং খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্সফ্যাটের সর্বোচ্চ সীমা মোট ফ্যাটের ২ শতাংশ নির্ধারণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যা জনস্বাস্থ্যের নিরিখে অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ।
ট্রান্সফ্যাটি অ্যাসিড (টিএফএ) বা ট্রান্সফ্যাট একটি পুষ্টিগুণ বিবর্জিত খাদ্য উপাদান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এর তথ্যমতে, ট্রান্সফ্যাটজনিত হূদেরাগে মৃত্যুর সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ডব্লিউএইচওর ২০২০ সালের তথ্য অনুযায়ী, খাদ্যে ট্রান্সফ্যাট গ্রহণের কারণে বাংলাদেশে হূদেরাগে আক্রান্ত হয়ে বছরে ৫ হাজার ৭৭৬ জন মানুষ মারা যায়। খাদ্যে ট্রান্সফ্যাটের প্রধান উত্স পারশিয়ালি হাইড্রোজেনেটেড অয়েল বা পিএইচও, যা ডালডা বা বনস্পতি ঘি নামে সুপরিচিত। পিএইচও বা ডালডা সাধারণত বেকারি পণ্য, প্রক্রিয়াজাতকৃত ও ভাজাপোড়া স্ন্যাক্স এবং হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ফুটপাতের দোকানে খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
সম্প্রতি এক গবেষণায় ঢাকার পিএইচও নমুনার ৯২ শতাংশে ডব্লিউএইচও সুপারিশকৃত ২ শতাংশের চেয়ে বেশি ট্রান্সফ্যাট (ট্রান্স ফ্যাটি অ্যাসিড) পাওয়া গেছে। প্রতি ১০০ গ্রাম পিএইচও নমুনায় সর্বোচ্চ ২০.৯ গ্রাম পর্যন্ত ট্রান্সফ্যাটের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। যা ডব্লিউএইচওর সুপারিশকৃত মাত্রার তুলনায় ১০ গুণেরও বেশি।
জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস-২০২১ উপলক্ষ্যে এক প্রতিক্রিয়ায় গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞার (প্রগতির জন্য জ্ঞান) নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের বলেছেন, ‘নিরাপদ খাদ্য সকলের অধিকার। আমরা জেনেছি নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণ নীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই নীতি চূড়ান্ত এবং বাস্তবায়ন করতে হবে।
এদিকে গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘নিরাপদ খাদ্য ও ভোক্তা অধিকার আন্দোলন বাংলাদেশ’ আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যত্ প্রজন্ম কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় উত্পাদনশীল সক্ষমতা হারাবে। ফলে ভবিষ্যতে জাতি মারাত্মক সমস্যায় পড়বে। ভয়াবহ হুমকিতে পড়বে প্রজন্মের উত্পাদনশীল ক্ষমতাও। প্রতিরোধে প্রয়োজন নিরাপদ খাদ্য আইনের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন। জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস-২০২১ দিবস উপলক্ষ্যে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে সংগঠনের প্রধান নির্বাহী কামরুজ্জামান বাবলু সভাপতিত্ব করেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন আহম্মদ বলেন, সরকারের নানামুখী কর্মকাণ্ডে দেশ খাদ্য উত্পাদনে অনেকটা স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও এখনো সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়ে উঠেনি। দেশে খাদ্য ব্যবসায়ে জড়িত কিছু অতি মুনাফাভোগী এবং ভেজালকারী চক্রের দৌরাত্ম্য ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।
তিনি বলেন, অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণের ফলে শুধু ব্যক্তি হিসেবে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাই নয়, এতে জাতি হিসেবে আমাদের উত্পাদনশীলতা কমে যাচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামীতে জাতি হিসেবে আমরা মারাত্মক সমস্যায় পতিত হব। সমাবেশে বক্তারা বলেন, ভেজাল রোধে আরো বেশি করে সরকারি নজরদারি বাড়াতে হবে। কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভূইয়া। সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি মো. শহীদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে ইসমাঈল হোসেন সিরাজী, সরদার মো. আব্দুস সাত্তার, জেসমিন আরা, নোমান মোশারেফ, আব্দুল আজিজ, ইমাম হাসান, মাহমুদুর রহমান খান বাপ্পী, শামসুজ্জামান নাঈম, রিপন মিয়া, নজির আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।