আবারো গণহত্যা হচ্ছে জিনজিয়াংয়ে 

গণহত্যা এবং হোলোকাস্ট হঠাৎ ঘটে না। পরিকল্পনা করে এই হত্যাকান্ড চালানো হয়। এই সপ্তাহে  ৭৬ বছর আগের দিনটিকে স্মরণে "লাইট দ্য ডার্কনেস" ব্যানারে একটি আয়োজন করে  বিশ্বব্যাপী ইহুদি সম্প্রদায়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের ওপর যে গণহত্যা চালানো হয়েছিল সাধারণত সেটাই হলোকাস্ট নামে পরিচিত। হিটলারের নেতৃত্বে নাৎসি পার্টির পরিচালনায় জার্মান নাৎসি সামরিক বাহিনী ইউরোপের তদানীন্তন ইহুদি জনগোষ্ঠীর অর্ধেকের বেশি অংশকে এবং আরও কিছু সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে বন্দী শিবির ও শ্রম শিবিরে নির্বিচারে হত্যা করে। আনুমানিক ষাট লক্ষ ইহুদি এবং আরও অনেক সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর মানুষ প্রাণ দেয়।

হিটলারের বাহিনী পঞ্চাশ লক্ষ ইহুদি ছাড়াও সোভিয়েত যুদ্ধবন্দী, সাম্যবাদী, রোমানী ভাষাগোষ্ঠীর (যাযাবর) জনগণ, অন্যান্য স্লাভীয় ভাষাভাষী জনগণ, প্রতিবন্ধী, সমকামী পুরুষ এবং ভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মতাদর্শের মানুষদের ওপর এই অমানবিক গণহত্যা পরিচালনা করে। নাৎসিরা এর নাম দিয়েছিল "ইহুদি প্রশ্নের চরম উপসংহার"। নাৎসি অত্যাচারের সকল ঘটনা আমলে নিলে সর্বমোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়াতে পারে নব্বই লক্ষ থেকে এক কোটি দশ লক্ষের মত।

অত্যাচার ও গণহত্যার এসব ঘটনা বিভিন্ন পর্যায়ে সংঘটিত হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর অনেক আগেই নাগরিক সমাজ থেকে ইহুদিদের উৎখাতের জন্য জার্মানিতে আইন প্রণয়ন করা হয়। জনাকীর্ণ বন্দী শিবিরে রাজনৈতিক ও যুদ্ধবন্দীদেরকে ক্রীতদাসের মতো কাজে লাগাতো যারা পরে অবসন্ন হয়ে রোগভোগের পর মারা যেত। জার্মানিতে নাৎসিদের উত্থানকে তৃতীয় রাইখ ("তৃতীয় রাজ্য") বলা হয়। নাৎসি জার্মানি তখন পূর্ব ইউরোপের কিছু এলাকা দখল করেছে। 

তারা সেখানে বিরুদ্ধাচরণকারী ও ইহুদিদের গণহারে গুলি করে হত্যা করে। ইহুদি এবং রোমানি ভাষাগোষ্ঠীর লোকদের তারা ধরে নিয়ে গ্যাটোতে রাখে। গেটো একধরনের বস্তি এলাকা যেখানে গাদাগাদি করে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে এসব মানুষদেরকে মানবেতর জীবনযাপন করতে হত। তারপর গেটো থেকে তাদেরকে মালবাহী ট্রেনে করে শত শত মাইল দূরের বধ্যশিবিরগুলোতে নিয়ে যেত। মালবাহী ট্রেনের পরিবহনেই অধিকাংশ মারা পড়ত। যারা বেঁচে থাকত তাদেরকে গ্যাস কক্ষে পুড়িয়ে হত্যা করা হত। তখনকার জার্মানির আমলাতন্ত্রের সকল শাখা সর্বাত্মকভাবে গণহত্যায় জড়িত ছিল। একজন ইহুদি গণহত্যা বিশেষজ্ঞ বলেছেন তারা জার্মানিকে একটি 'নরঘাতক রাষ্ট্রে' পরিণত করেছিল

২০১৭ সালে বেইজিংয়ের উত্তর পশ্চিম চীনে উইঘুরদের নৃশংস ক্র্যাকডাউন করার পরে, বিশ্বব্যাপী ইহুদি সম্প্রদায়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হয়েছে , এই উষ্ণ গণহত্যাকে থামানোর জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা।২০ বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত হওয়া রাব্বি জোনাথন উইটেনবার্গ উইঘুর নির্বাসিত জিবা মুরাতকে বলেন, যে তার নিজের মা মৃত পরিবারের সদস্যদের ছাই নিয়ে আসার ভয়ে অপেক্ষাইয় থাকতেন। 

তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন আমরা যেনো আমাদের মানবতার বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছি, এখান থেকে আমাদের দূরে থাকতে হবে। ক্যানটারবেরির প্রাক্তন আর্চবিশ রোয়ান উইলিয়ামস দমন, অপমান এবং গালিগালাজকে "সমস্ত মানুষের বিরুদ্ধে অপরাধ" বলে অভিহিত করেছেন। একজন খ্রিস্টান বিশ্বাসী হিসাবে তিনি এমন একটি ঈশ্বরকে বিশ্বাস করেন যিনি "ন্যায়বিচারকে চ্যাম্পিয়ন করেন," তিনি আরও বলেন, মানুষ হিসাবে, "আমাদের উত্তরের অংশ হিসেবে ডাকা হয়।"

লন্ডনে জাতিসংঘের কার্যালয়ের সামনে চীনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ করেছিল তিব্বতি ও উইঘুর সম্প্রদায়ের সদস্যরা। তিব্বত ও পূর্ব তুর্কিস্তানে চীনের ‘মানবতাবিরোধী জঘন্যতম অপরাধ’ এর নবম বার্ষিকী উপলক্ষে এই বিক্ষোভ করা হয়।

বিক্ষোভকারীদের হাতে ‘তিব্বত ও পূর্ব তুর্কিস্তানের বন্ধুত্ব দীর্ঘজীবী হোক’, ‘উইঘুর মানুষদের বাঁচান’ ইত্যাদি শ্লোগান সম্বলিত ব্যানার দেখা যায়। গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর তিব্বত ও জিএটিপিএমের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) ১৯তম পলিট ব্যুরোর সদস্য চেন কোয়াঙ্গুও পার্টির দ্বিতীয় পদের জন্য বিবেচিত হচ্ছেন। আর তিনি হলেন তিব্বত ও পূর্ব তুর্কিস্তান শাসন করা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে নির্মম চীনা নেতা।’

জিনজিয়াংয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় গত মাসে মার্কিন কর্তৃক নিষিদ্ধ চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কর্মকর্তাদের একজন তিনি।ওয়ার্ল্ড উইঘুর কংগ্রেসের পরিচালক রহিমা মাহমুত বলেন, ‘আমরা সবাই যেন একত্রিত হই, এবং আমাদের প্রতিবাদ জানাই।’ রহিমা আরও বলেন, ওয়ার্ল্ড উইঘুর কংগ্রেস শিগগিরই উইঘুর গণহত্যা বন্ধের প্রচার শুরু করবে।বেটার উইন্টার।

ইত্তেফাক/এএইচপি