শুকিয়ে যাচ্ছে পাহাড়ি ছড়া পানির কষ্ট বেড়েছে পার্বত্য জনপদে

কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) সংবাদদাতা

বর্তমান শুষ্ক মৌসুমে কাপ্তাইয়ের পাহাড়ি ছড়াগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে পার্বত্য জনপদে পানির কষ্ট দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরেজমিনে কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গা ইউনিয়ন, চিত্মরম ইউনিয়ন ছাড়াও জেলার কাউখালী, রাজস্থলী সদর উপজেলাসহ বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব পাহাড়ি ছড়াই এখন পানিশূন্য হয়ে পড়েছে।

ওয়াগ্গা ইউনিয়নের আপাই মারমাসহ একাধিক ভুক্তভোগী জানান, পাহাড়ি ছড়ায় যখন পানির প্রবাহ থাকত তখন পার্বত্য জনপদের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ নিত্যদিনের কাজে ছড়ার পানি ব্যবহার করত। গোসল করা, কাপড় ধোয়া, হাঁড়ি-পাতিল পরিষ্কার করাসহ দৈনন্দিন সব কাজে মানুষ ছড়ার পানি ব্যবহার করত। কিন্তু বর্তমানে প্রায় সব ছড়াই শুকিয়ে আছে। এতে ক্রমান্বয়ে পানির কষ্টও বাড়ছে। অন্যদিকে ছড়ায় পানি না থাকায় আমরা জমিতে পানি দিতে পারছি না। এতে ফলনে বিপর্যয় ঘটতে পারে।

রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের সদস্য দিপ্তী তালুকদার পাহাড়ি ছড়া শুকিয়ে যাওয়ায় সাধারণ জনগণের অসুবিধা হচ্ছে স্বীকার করে বলেন, প্রতি বছর ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত পাহাড়ি এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হওয়া ছড়াগুলো শুকিয়ে যায়। তবে ছড়ার পানি শুকিয়ে গেলেও বিপুলসংখ্যক মানুষ পানির কষ্ট ভোগ করছে না। তিনি বলেন, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে অনেকগুলো ডিপ টিউবওয়েল বসানো হয়েছে। সেসব ডিপ টিউবওয়েল থেকে পানি তুলে মানুষ ব্যবহার করে কিছুটা হলেও কষ্ট লাঘব করতে পারছেন। যেসব স্থানে এখনো ডিপ টিউবওয়েল বসানো হয়নি, সেখানে যাতে টিউবওয়েল বসানো হয় সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে তা সময়সাপেক্ষ।

রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন আক্তার বলেন, শুষ্ক মৌসুমে পানীয়জলের কষ্ট পার্বত্য জনপদের সর্বত্র। বিষয়টি সমাধানে উপজেলা পরিষদের মাসিক বৈঠকে আলোচনা করা হবে। কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোন্তাসির জাহান বলেন, বিষয়টি আমি সরেজমিনে দেখে এসেছি। আগামী মাসে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে মিটিংয়ে এ বিষয়ে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।