অসচেতনতাই দুর্ঘটনার মূল কারণ
রাবেয়া বেবী
গত বছর সারা দেশে ২১ হাজার ১৭৩টি অগ্নিকাণ্ড হয়েছে। দগ্ধ হয়েছে ৩৭১ জন। এরমধ্যে পুরুষ ২৯৩ জন ও নারী ৭৮ জন। আগুনে পুড়ে প্রাণ হারিয়েছে ৪৮ জন পুরুষ ও ১০৬ জন নারী। মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১৫৪ জন। আগুনে মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৪৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সদর দপ্তর হতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
তথ্যানুযায়ী, ২০২০ সালে মোট ১ হাজার ৪২৬ কোটি ১৮ লাখ ৪০ হাজার ৯৩৯ টাকা আগুনের গ্রাস হতে রক্ষা করা হয়েছে। একই সময় ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ১৫ জন কর্মচারী কর্মকর্তা আহত হন। এর আগের বছর ২০১৯ সালে ২৪ হাজার ৭৪টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মারা যান ১৮৪ জন। এসব অগ্নিকাণ্ডে সম্পদের ক্ষতি হয় ৩৩০ কোটি ৪১ লাখ ৫৬ হাজার টাকার। ২০২০ সালের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাসাবাড়িতে ৬ হাজার ১৫০টি আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। বস্তিতে ১০৯টি অগ্নিকাণ্ড ঘটে। সবচেয়ে বেশি আগুনের ঘটনা ঘটেছে ঢাকায়।
গত বছর ৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি কলোনি বস্তিতে আগুন লেগে বস্তির সব ঘর পুড়ে যায়। ২৭ মে গুলশান-২-এর ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনা ইউনিটে আগুনে ৫ জন মারা যান। ২৩ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে এক মসজিদে আগুন লেগে অনেক কোরআন শরিফ পুড়ে যায়। গত বছর ৪ সেপ্টেম্বর ফতুল্লায় মসজিদের ভেতর অগ্নিকাণ্ডে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়াও ঢাকায় প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও আগুন লাগে। সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞজনেরা মনে করেন অধিকাংশ অগ্নিকাণ্ডের পেছনে মানুষের অসচেতনতাই মূল কারণ। ঘনবসতি ও অপরিকল্পিত নগরায়ণ তো রয়েছেই।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লানার্সের সভাপতি আকতার মাহমুদ ইত্তেফাককে বলেন, শহরে বৈদ্যুতিক সর্টসার্কিট, বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ (এসি বা ফ্রিজ), গ্যাসের চুলা থেকে বেশি আগুন লাগে। আবাসিক এলাকায় দাহ্যপদার্থ রাখা, কারখানা স্থাপনের কারণেও আগুন লাগে। বাড়ি বানানোর সময় মান সম্পন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার ও বছরে তা একবার পর্যবেক্ষণ করলে আগুন লাগার ঘটনা কমে যেত। ‘সারা দেশের তুলনায় ঢাকায় অগ্নিকাণ্ড বেশি ঘটে বলে মন্তব্য করেন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক (অপারেশনস) আবদুল হালিম। তিনি বলেন, ভবন নির্মাণ, নগরায়ণসহ সবকিছুতেই নিয়ম মানতে হবে। অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা রাখতে হবে। এছাড়াও জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের কর্মীরাও আগের চেয়ে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত। ফায়ার সার্ভিসে এখন আধুনিক সরঞ্জাম আছে। তবে লোকবলের অভাব আছে। সারা দেশে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সে ১৩ হাজার লোক কাজ করছে।