বদলে যাচ্ছে সামাজিক জীব হিসেবে মানুষের সামাজিকতার বৈশিষ্ট্য। বিশ্বায়ন ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের যুগে বদলে যাচ্ছে মানুষের জীবন যাপনের ধরন আর সেইসঙ্গে দৃষ্টিভঙ্গি। যা ধ্বংস করছে সমাজ কাঠামোর বহু উপাদানকে। ক্ষমতা, স্বার্থপরতা, দাম্ভিকতা আর নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ডের আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে সমাজের চিরচেনা সাম্য, ঐক্য, শৃঙ্খলা, শান্তি, ভ্রাতৃত্ববোধ...। সামাজিকতা ভুলে গিয়ে মানুষ এখন ক্ষমতার বলে বাছবিচারহীনভাবে করছে যা ইচ্ছা তাই, স্বার্থপরতায় মগ্ন হয়ে মানুষ ভুলে যাচ্ছে কে আপন কে পর কিংবা আত্মীয়, উপকারী কাউকে। দাম্ভিকতার ছোঁয়ায় হারাচ্ছে মানুষ তার ক্ষমাশীলতা, পরমতসহিষ্ণুতা আর ত্যাগী মনোভাব। যার ফলে ফাটল ধরছে সামাজিক ঐক্যে। সমাজ বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে। তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে মানুষের মাঝে সৃষ্টি হচ্ছে বিবাদ, হানাহানি এমনকি প্রাণনাশের মতো ঘটনা। তবে কি হারিয়ে যাচ্ছে মনুষ্যত্ব? প্রমাণ পাওয়ার জন্য আমাদের বেশি দূর যেতে হচ্ছে না। আশেপাশেই শত শত উদাহরণ। দিনের আলোতে মানুষ কেড়ে নিচ্ছে মায়ের বুক থেকে ছেলেকে, স্ত্রীর কাছ থেকে স্বামীকে কিংবা বন্ধুর কাছ থেকে বন্ধুকে। আজ আমরা এমন সমাজে এসে পৌঁছেছি, যেখানে বাবার কাছেও নিরাপত্তা পাচ্ছে না তাঁর সন্তান, স্বামীর কাছে স্ত্রী, বন্ধুর কাছে বন্ধু বা ভাইয়ের কাছে ভাই। আরো এমন অনেক কিছু ঘটে যাচ্ছে যা আদিম যুগের বর্বরতাকেও হার মানাচ্ছে!
প্রতিবাদ করতে কেউ এগিয়ে আসার সাহস পাচ্ছে না ভয়, হয়রানি কিংবা অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার জেরে। তাই সমাজ যেন পরিণত হচ্ছে অদৃশ্য কারাগারে। এর আশু নিরাময় দরকার, অতীতের শান্তি, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা, ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সমাজের দিকে ফিরে আসা এখন সময়ের দাবি। সময় এসেছে এমন সমাজ নির্মাণের যেখানে থাকবে না হানাহানি, সংঘাত কিংবা ক্ষমতার অবৈধ দাপট। থাকবে শুধু কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের জন্য, দশের জন্য কল্যাণকর কিছু করার দৃঢ় প্রয়াস। এজন্য এগিয়ে আসতে হবে সমাজপতিদের, কাজ করতে হবে সমাজের প্রত্যেক সদস্যকে। অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি ভাবতে হবে সামাজিক উন্নয়ন সম্পর্কেও। সামাজিকীকরণের মাধ্যমগুলোকে হতে হবে আরো সক্রিয়। ভাবতে হবে আমরা মানুষ, তাই মনুষ্যত্ব আমাদের প্রধান বৈশিষ্ট্য আর সামাজিকতা আমাদের অলংকার। প্রত্যেককে প্রত্যেকের স্থান থেকে অবদান রাখতে হবে। যাতে আমরা নতুন প্রজন্মকে উপহার দিতে পারি নির্মল-শান্তিময় একটি সমাজব্যবস্থা।
মুহাম্মদ আবু হানিফ
শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ