জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ বলেছেন, কালো টাকাকে কর প্রদানের সময় ‘অপ্রদর্শিত অর্থ’ সংজ্ঞায়িত করে গুরুতর অপরাধটিকে হালকা করা হয়েছে। এটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে সমালোচনা হচ্ছে। রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত ‘দুর্নীতিজাত অনুপার্জিত আয়’-এর উত্স, উপায় ও উপলক্ষ্য কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ বা বন্ধ করা।
গতকাল এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফরম, বাংলাদেশের ভার্চুয়াল সংলাপে এ বক্তব্য উঠে এসেছে। ‘কালো টাকা সাদা হচ্ছে: অর্থনীতির লাভ না ক্ষতি?’ শীর্ষক সংলাপে অপ্রদর্শিত আয় বৈধ হবার ফলে দেশের অর্থনীতির প্রকৃতপক্ষে কী লাভ হচ্ছে, না লাভের চাইতে ক্ষতি বেশি হচ্ছে তা নিয়ে নানা দৃষ্টিভঙ্গি উঠে আসে।
প্রসঙ্গত, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে প্রায় ১০ হাজার ২২০ কোটি টাকা অপ্রদর্শিত আয় প্রায় সাড়ে ৯০০ কোটি টাকা কর দিয়ে বৈধ করা হয়েছে। ৭ হাজার ৪৪৫ জন করদাতা এই সুবিধা নিয়েছেন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনো ঘটেনি। অনেক দিন ধরে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকলেও চলতি বছরে সুবিধা গ্রহণের এই উল্লম্ফন নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। সংলাপে কালো টাকার বিস্তার রোধে রাজনৈতিক অঙ্গীকার, সামাজিক আন্দোলন, তথ্যের স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকার বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে বলে বক্তারা বলেন।
সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, এ ধরনের সুবিধা সত্ করদাতাদের নিরুত্সাহিত করে। তিনি বিশেষ এই সুবিধা সত্যিই অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক কি না, এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে গবেষণা করার পরামর্শ দেন।
এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফরমের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সংলাপে সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, কালো টাকা সাদা করার এই সুযোগ অন্যায্যবোধকে প্রশ্রয় দেয়। সীমিত আকারে ও স্বল্প সময়ের জন্য এই সুযোগ অর্থনীতির জন্য সহায়ক হলেও, দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিতে এর ক্ষতির কথা তিনি উল্লেখ করেন।
এনবিআরের সাবেক সদস্য মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, কালো টাকা আয়ের মূল কারণ হলো সুশাসনের অভাব। কালো টাকা রোধে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি। এনবিআরের সদস্য মো. আলমগীর হোসেন মন্তব্য করেন যে অপ্রদর্শিত আয় মূল ধারায় নিয়ে আসার বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) সভাপতি রিজওয়ান রাহমান এবং কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বর্তমানে কালো টাকা সাদা করার সুযোগের থেকে সত্ভাবে কর দেওয়া বেশি ব্যয়বহুল। এই সুযোগের কারণে মানুষ সত্ভাবে কর দিতে নিরুত্সাহিত হতে পারে।
সংলাপে আরো বক্তব্য রাখেন—সংসদ সদস্য মো. শফিউল ইসলাম, মাল্টিমোড গ্রুপের পরিচালক তাবিথ আউয়াল প্রমুখ। নাগরিক প্ল্যাটফরমের কোর গ্রুপ সদস্যদের পক্ষ থেকে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এবং সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।