রাজধানীতে ভেজাল মদের কারখানায় অভিযান চালিয়ে ছয় কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ সোমবার রাতে তেজগাঁও ও ভাটারা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে—মনতোষ চন্দ্র অধিকারী ওরফে আকাশ, রেদুয়ান উল্লাহ, সাগর বেপারী, নাসির আহমেদ ওরফে রুহুল, মো. জাহাঙ্গীর আলম ও সৈয়দ আল আমিন। এ সময় ভেজাল মদ তৈরির কারখানা থেকে উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ ভেজাল মদ ও মদ তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম। গোয়েন্দা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার মশিউর রহমান।
এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, গত কয়েক দিন মদ পান করার পর অসুস্থ হয়ে ভাটারা থানা এলাকায় তিন জন, ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকায় এক জন এবং মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় দুই জনসহ মোট ছয় জনের মৃত্যু হয়; যা রাজধানীসহ দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা রুজু হয়। উক্ত মামলাসমূহ থানা পুলিশের পাশাপাশি ছায়া তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ।
উপ-কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, তদন্তে ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকায় মদ সেবনে মৃত্যুর ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলযোগে এসে এক বোতল মদ ভিকটিমকে দিয়ে চলে যায়, যা সেবন করে ভিকটিমের মৃত্যু হয়। পরবর্তী সময়ে ঐ দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর সোমবার রাতে তেজগাঁওয়ের ইয়ানতুন চাইনিজ রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে মনতোষ, রেদুয়ান ও সাগরকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভাটারা থানার খিলবাড়িরটেক এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ভেজাল মদ তৈরির কারখানার সন্ধানসহ কারখানার মালিক নাসির, ম্যানেজার আল আমিন ও কারিগর জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় ভেজাল মদের কারখানা থেকে নকল বিদেশি মদ, মদের খালি বোতল, বোতলেরর ছিপি, স্টিকার, স্পিরিট, কৃত্রিম রংসহ বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এই চক্রের মূল হোতা নাসির ভেজাল মদ তৈরি করে বিক্রি করত। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়্যারহাউজগুলো থেকে মদ ক্রয়-বিক্রয়ে কড়াকড়ি থাকায় বাজারে মদের সংকট তৈরি হয়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা ভেজাল মদ তৈরির কারখানা গড়ে তোলে। তারা ভেজাল মদ তৈরির উপকরণ স্পিরিট, স্টিকার ও রং পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের আশপাশ থেকে সংগ্রহ করত। এরপর সেগুলো দিয়ে চিনি পোড়ানো কালার ব্যবহার করে ভেজাল মদ তৈরি করে তা চক্রের অন্য সদস্যদের দিয়ে বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতার কাছে বিক্রি করত। তাদের মাধ্যমে ভেজাল মদ চলে যেত সেবনকারীদের কাছে।
মোহাম্মদপুর ও ভাটারা থানা এলাকায় মদপানে যে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে, সেগুলোও গ্রেফতারকৃতদের কারখানাতেই তৈরিকৃত ভেজাল মদ বলে গোয়েন্দা তদন্তে বেরিয়ে আসে।