সন্তান হত্যার আসামির জামিনে আপত্তি নেই বাদীর

সিলেটের বিয়ানীবাজারে চাচির অনৈতিক সম্পর্ক দেখে ফেলায় হত্যা করা হয় সাড়ে তিন বছরের শিশু সোহেলকে। চাচির দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নাম আসে আসামি নাহিদুল ইসলামের। 

মামলা দায়ের করেন শিশুটির পিতা খসরু মিয়া। কিন্তু তিনি এখন আদালতে লিখিত দরখাস্ত দিয়ে বলছেন, নাহিদ এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নন। ভুলবশত তার বিরুদ্ধে মামলা করেছি। হাইকোর্ট বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে মামলার বাদী শিশুটির পিতার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে। বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। 

একই সঙ্গে আসামি নাহিদের জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত। আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ।

গত বছরের ৭ জুন রবিবার ভোরে শিশুটি চাচির বসতঘরে ঢুকে নাহিদুল ও সুরমা বেগমের অনৈতিক মেলামেশা দেখে ফেলে। এরপর শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ কম্বল দিয়ে মুড়িয়ে গোসল খানায় প্লাস্টিকের ড্রামের মধ্যে ফেলে রাখে তারা। লাশ উদ্ধারের পর নাহিদুল ইসলাম ও সুরমা বেগমকে আটক করে পুলিশ। সুরমা বেগম শিশুটির চাচা রুনু মিয়ার স্ত্রী। নাহিদুল চারখাই ইউনিয়নের মধুরচক এলাকার কামাল মিয়ার ছেলে। 

এই মামলায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সুরমা বেগম বলেছে, ঘটনার দিন দেবর নাহিদ ও আমার মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক দেখে ফেলায় আমি লাঠি দিয়ে সোহেলের নাকে-মুখে আঘাত করি। নাহিদ এসে গলা চেপে ধরে। কিছুক্ষণ পর দেখি শিশুটি আর নড়ছে না। 

এরপর দুই জনে মিলে লাশ গোছলখানার পানির ট্যাংকির ভেতর লুকিয়ে রাখি। এই মামলায় নিম্ন আদালত আসামি নাহিদের জামিন না মঞ্জুর করে। এরপর হাইকোর্টে জামিন চান। শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট জামিন আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. বশির উল্লাহ ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মিজানুর রহমান খান শাহীন ও আসামি পক্ষে আল আমীন শুনানি করেন।

ইত্তেফাক/এএএম