হাইকোর্টে জামিন চাইলেন দণ্ডিত ওসি মোয়াজ্জেম

হাইকোর্টে জামিন চেয়েছেন ফেনীর সোনাগাজী থানার বরখাস্তকৃত ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় তাকে আট বছরের সাজা হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে জামিন চান তিনি। 

সংক্ষিপ্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট আবেদনের ওপর শুনানি তিন মাস স্ট্যান্ডওভার (মুলতুবি) করেন। বিচারপতি হাবিবুল গনি ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ বুধবার এই আদেশ দেন। 

জামিন শুনানিতে মোয়াজ্জেমের আইনজীবী মুরাদ রেজা বলেন, ওসি ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেনি। তার মোবাইলে করা ভিডিওটি একজন সাংবাদিক ওসির মোবাইল থেকে নিয়ে প্রকাশ করেছে। এক্ষেত্রে ওসির কোন অপরাধ নেই। যদি অপরাধ হয় তাহলে সেটা ওই সাংবাদিকের। কারণ সে ভিডিওটা প্রকাশ করেছে। 

এ পর্যায়ে আদালত বলেন, সাংবাদিকের অনুসন্ধিৎসু মন তথ্য তো খুঁজবেই, এতে অপরাধের কিছু দেখছি না। আদালত বলেন, থানার ওসি একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। সাধারণ কেউ নন। উনার ব্যক্তিগত মোবাইলে কেন ভিকটিমের ভিডিও ধারণ করল? ওই ভিডিও ধারণ করাটাই তো অপরাধ। সাইবার ট্রাইব্যুনাল এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই তাকে দণ্ড দিয়েছে। 

এরপরই জামিন শুনানি তিন মাস মুলতুবি করে হাইকোর্ট। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রেজাউল করিম উপস্থিত ছিলেন। 

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন হয়রানি করেন। এ ঘটনায় তার মা ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় থানায় অভিযোগ দাখিল করেন। এরপর ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন নুসরাতকে থানায় ডেকে নিয়ে তার জবানবন্দি নিজ মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে তা অন্যের কাছে পাঠিয়ে দেয়। 

এ ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় ওসি মোয়াজ্জেমকে ওই বছরের ৭ ডিসেম্বর আট বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করে রায় দেয় ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন তিনি। আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে হাইকোর্ট। পরে তিনি জামিন চান। 

নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় ইতিমধ্যে অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। 

ইত্তেফাক/জেডএইচ