গত মাসে একটি তেল ট্যাংকারসহ ২০ ক্রু আটক হয়
দক্ষিণ কোরিয়ার একটি তেল ট্যাংকারের নাবিকদের ইরান ত্যাগের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রায় এক মাস আগে তাদের পারস্য উপসাগর থেকে আটক করা হয়েছিল। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাঈদ খাতিবজাদে মঙ্গলবার বলেছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের বিচার বিভাগ এসব নাবিককে ইরান ত্যাগের অনুমতি দিয়েছে। পার্স ট্যুডে
ইরানের মুখপাত্র বলেন, বিষয়টি তারা ইরানের পক্ষে একটি মানবিক পদক্ষেপ বলে মনে করে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার তেল ট্যাংকারটির আইন লঙ্ঘনকারী পদক্ষেপের বিষয়টি এখনো ইরানের আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং এর ক্যাপ্টেনের বিরুদ্ধেও আদালতে মামলা চলবে বলে জানান তিনি। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির নৌবাহিনী গত ৪ জানুয়ারি পারস্য উপসাগরের পানি দূষিত করার অভিযোগে ২০ ক্রুসহ দক্ষিণ কোরিয়ার একটি তেল ট্যাংকার আটক করে। জাহাজটি আটকের কয়েক দিনের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী তেহরান সফরে এসে উচ্চপদস্থ ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন।
এ সময় দক্ষিণ কোরিয়ায় আটকে পড়া কয়েক শ কোটি ডলার ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানায় ইরান। কিন্তু তখন বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কোনো আপস হয়নি। ইরান বলছে, সে দেশের তেল বিক্রির প্রায় ৭০০ কোটি ডলার দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন ব্যাংকে আটকে আছে। অন্য দিকে সিউল দাবি করছে, আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার কারণে এই অর্থ ইরানে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। খাতিবজাদে আরো বলেছেন, ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করে আরেক বার তার দেশের আটকে পড়া অর্থ ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এ সময় সিউলের পক্ষ থেকে ইরানের অর্থ ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়ে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত জটিলতার অবসান হওয়ামাত্র তারা ইরানের অর্থ ফেরত দেবেন।