দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

সাত মাস ধরে সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ

জাকির হোসেন কবির, দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) সংবাদদাতা

গাইনি চিকিত্সক সংকটের কারণে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাত মাস ধরে সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ। ফলে গরিব রোগীর অভিভাবকরা বিভিন্ন ক্লিনিকে অপারেশন করাতে গিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন।

কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাছিনুর রহমান জানান, গত সাত মাস ধরে হাসপাতালে সিজার অপারেশন বন্ধ রয়েছে। সিজার করতেন গাইনি ডাক্তার  ফারজানা। সাত মাস আগে তিনি বদলি হয়ে যান। তার পরিবর্তে নতুন কেউ আসেনি। সিজার করার জন্য ওটিসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকলেও নেই গাইনি ডাক্তার ও এনেসথেসিওলজিস্ট। হাসপাতালের দুটি এম্বুলেন্স আছে, একটিরও চালক নেই। আগে ডেন্টাল যন্ত্রপাতি ছিল, ছিল না ডেন্টাল ডাক্তার। এখন ডেন্টাল সার্জন আছে, যন্ত্রপাতির সমস্যা রয়েছে।  এক্সরে মেশিন থাকলেও গত পাঁচ বছর ধরে টেশনিশিয়ান নেই। ফলে এ মেশিনটি এখন নষ্ট হওয়ার পথে। হেলথ কমপ্লেক্সে সাত জন চিকিত্সক ও প্রয়োজনীয় নার্স আছেন। কিন্তু শিশু, গাইনি, সার্জারির বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক নেই দীর্ঘ সময় ধরে।

আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. সপূর্ণ কুমার সাহা জানান, দেবীগঞ্জ  হাসপাতালে প্রয়োজনে বিনামূল্যে গরিব গর্ভবতীদের সিজার করানো হতো ডিমান্ড সার্ভিস ফান্ড (ডিএসএফ) এর মাধ্যমে। সিজারে আমি সহযোগী হিসেবে থাকতাম। কিন্তু গাইনি ডাক্তার না থাকায় সিজার বন্ধ রয়েছে। ফলে গরিবদের অতিরিক্ত টাকা খরচ করে ক্লিনিকে সিজার করতে হচ্ছে। দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের বসুনীয়াপাড়া গ্রামের ডা. জিয়া হায়দার বসুনীয়া বর্তমানে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত। তিনি দেবীগঞ্জ হাসপাতালে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ছিলেন। গত ১ জানুয়ারি ডা. জিয়ার মা অসুস্থ হলে রংপুর থেকে দেবীগঞ্জ হাসপাতালে ফোন করে এম্বুলেন্স চেয়েছিলেন।  কিন্তু চালক না থাকায় এম্বুলেন্স দেওয়া সম্ভব হয়নি।  দেবীগঞ্জ উপজেলার সবুজপাড়া গ্রামের সেলিম কবির গত সপ্তাহে তার নবজাতক শিশুকে শিশুজনিত সমস্যা নিয়ে দেবীগঞ্জ হাসপাতালে এসে শিশু ডাক্তার না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও সদরে গিয়ে শিশুটিকে ডাক্তার দেখান। উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক চিশতী জানান, দেবীগঞ্জ হাসপাতালের সমস্যাগুলো নিয়ে জেলা আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে আলোচনা হয়েছে। পঞ্চগড় জেলার জেলা সিভিল ডা. ফজলুর রহমান ইত্তেফাককে জানান, গত ১২ বছর ধরে টেকনিশিয়ান নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। গাইনি ও শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পাওয়া যাচ্ছে না। দেবীগঞ্জ হাসপাতালের সমস্যা নিয়ে তিনবার হেলথ ডিজি বরাবরে লিখিতভাবে জানিয়েছি। ডিজি অফিস জানিয়েছে, মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে পারে।