এক মাসেও মেলেনি হাসপাতালে ভর্তি অজ্ঞাত শিশুর পরিচয়!

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

আশুগঞ্জে চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে অজ্ঞাত (১১) এক শিশু গুরুতর আহত হয়ে এক মাস ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। এখনো আহত ঐ শিশুর পরিবারের পরিচয় মেলেনি। অজ্ঞাত শিশুর অভিভাবক হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের ঝাড়ুদার উজ্জ্বল। তার বাড়ি থেকে খিচুড়ি, সেমাই, সুজি, দুধ, বেলের সরবত নিয়ে নিজেই খাওয়ানোর চেষ্টা করছেন। শিশুটির সেবাযত্নও করছেন তিনি। উজ্জ্বল বলেন, মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত অজ্ঞাত শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়। এখন ঐ শিশুটি চোখ মেলতে পারে। মাঝেমধ্যে কথা বলার চেষ্টাও করছে। ঐ শিশুর মুখে খাবার দিলে তাও গিলতে পারে। ঐ শিশুর যাবতীয় ওষুধপত্র ও খাওয়া-দাওয়া হাসপাতাল তহবিল ও বিভিন্ন সামাজিক-মানবিক সংগঠন থেকে দেওয়া হচ্ছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. শওকত হোসেন জানান, যখন শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তখন থেকেই শিশুটি অচেতন ছিল। এখন শিশুটির শারীরিক অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। ঐ শিশুর সব ওষুধপত্র হাসপাতাল থেকে দেওয়া হচ্ছে। গত ৩ জানুয়ারি স্থানীয় এক ব্যক্তি দুপুর পৌনে ২টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট রেলপথের আশুগঞ্জ সদর ইউনিয়নের বৈকণ্ঠপুর এলাকার রেললাইনের পাশ থেকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকা একটি শিশুকে উদ্ধার করেন। পরে তিনি আশুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছিলেন। তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও শারীরিক অবস্থা খারাপ দেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে উন্নত চিকিত্সার জন্য ভর্তি করা হয়েছিল। এখনো তার পরিবারকে শনাক্ত করা যায়নি। সদর  থানার ওসি আবদুর রহিম জানান, অজ্ঞাত শিশুটির ব্যাপারে থানায় জিডি হয়েছে। শিশুটির পরিচয় জানতে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।