টেকনাফ (কক্সবাজার) সংবাদদাতা
টেকনাফে পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌর এলাকায় পাহাড়ি ছড়া ও খালগুলোর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বিভিন্ন স্থানে বাধাগ্রস্ত হয়ে বিপুল পরিমাণ জমিতে সেচ সংকটে চাষাবাদ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসব ছড়া ও খাল দ্রুত সংস্কার বা খনন না করা হলে আসন্ন বর্ষাকালে জলাবদ্ধতাসহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে স্থানীয় কৃষকসহ বাসিন্দারা। জানা যায়, ৩৮৮.৬৮ বর্গ কি.মি. আয়তনের টেকনাফ উপজেলায় আবাদযোগ্য ১৩৭২৮ হেক্টর জমির মধ্যে ১১৪৭৫ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়ে আসছে। ৩৬টি গভীর ও অগভীর নলকূপের সেচ পাম্প এবং ২৪০টি পাম্প মেশিনসহ বিকল্প উপায়ে সেচ দিয়ে কৃষকেরা জমি চাষাবাদ করে আসছে।
সূত্র জানায়, উপজেলার মোট ৪৫টি খাল এবং ২৫টি পাহাড়ি ছড়া রয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তি খাল ও ছড়াগুলোতে জবর-দখলসহ নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় পুরো এলাকাকে চাষাবাদের আওতায় আনা যাচ্ছে না। পাহাড় থেকে নেমে আসা পলি মাটিতে খাল ভরাট হয়ে গেলেও খননের উদ্যোগ না থাকায় ক্রমেই তা বেদখল হয়ে যাচ্ছে। যত্রতত্র খাল ও পাহাড়ি ছড়া দখল করে স্থাপনা গড়ে ওঠায় বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে বেশির ভাগ এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। এ ব্যাপারে হোয়াইক্যং ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী জানান, এলাকাভিত্তিক চাষাবাদ বাড়াতে এসব খাল ও ছড়া উদ্ধার করে সংস্কারের বিকল্প নেই। মাস্টার প্ল্যানের মাধ্যমে মৃত এসব খাল ও পাহাড়ি ছড়াকে পুনর্জীবিত করে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে সরকারসহ সমাজের সব পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।
হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী বলেন, প্রতি বছর বর্ষায় পাহাড়ি ঢলে খাল ও পাহাড়ি ছড়াসমুহ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। তা নিয়মিত সংস্কার না হওয়ায় নিয়মিত মৌসুমী চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। সংস্কারের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়ে আসছি। এছাড়া পাহাড়ের ভেতরে বাহাতি ছড়া নামে একটি বড় ধরনের পানির আধার রয়েছে। তা সংস্কার করে মুখ পরিবর্তন করে দিলে হাজার হাজার একর চাষাবাদ বৃদ্ধির পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্পসমূহে খাবার পানির সংকট দূর করা সম্ভব হবে। বাহারছড়া ইউপি চেয়ারম্যান মৌলভী আজিজ উদ্দিন জানান, বাহারছড়ায় পাহাড়ের পাদদেশ থেকে সরাসরি বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে মিলিত হয়েছে এরকম বেশ কয়েকটি খাল রয়েছে। মেরিন ড্রাইভ হওয়ার পর কিছু খালের মুখ বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে মাথা ভাঙ্গার ফজল মার্কেটের উত্তর পাশ হয়ে বয়ে চলা পাহাড়ি খালটি বন্ধ ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে তা সংস্কার করা হয়েছে। বিভিন্ন ওয়ার্ডে কিছু কিছু ছোট ছড়ায় পানি চলাচলের সুবিধার্থে ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে এবং কৃষি উন্নয়নে ভরে যাওয়া ছড়াগুলো সংস্কার করা গেলে এলাকাবাসী পানিবন্দি অবস্থা থেকে মুক্তি পাবে, খেতে পানি সেচের সুবিধা হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. ভবসিন্ধু রায় জানান, অত্র উপজেলার জবরদখল ও ভরাট হওয়া খাল এবং পাহাড়ি ছড়াসমূহ উদ্ধার করে সংস্কারের পর পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা হলে বিশাল জমি চাষাবাদের আওতায় আসবে। এতে স্থানীয়ভাবে খাদ্য উত্পাদন ও সরবরাহ বাড়বে। আশা করি বিষয়টি সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল গুরুত্ব সহকারে দেখবেন। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, জনস্বার্থে বেদখল হওয়া খাল ও পাহাড়ি ছড়াসমূহ উদ্ধার করা হবে। এসব খাল ও ছড়া সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন মহলকে জরুরি ভিত্তিতে অবহিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।