বিশ্ব ক্যানসার দিবস

 ‘ক্যানসার’ রোগটির নাম শুনলেই যেন মরার আগেই মরে যাওয়ার ভয়। গবেষণা বলে আমাদের জীবনযাত্রার মানের পরিবর্তন ক্যানসার রোগীর সংখ্যা বাড়াচ্ছে। বিভিন্ন রোগে ভুগে মারা যাওয়ার ষষ্ঠ কারণ হিসেবে এই দুরারোগকে দায়ী করা হয়। অথচ স্বচ্ছ জ্ঞানে সচেতন থাকলে ভয়ংকর রোগটিকে অনেকটা প্রতিরোধ সম্ভব।

৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ক্যানসার দিবস। দিবস মানেই গণসচেতনতা, দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘আমি আছি ও আমি থাকব’, সহজ করে বলতে গেলে ক্যানসার প্রতিরোধ, শুরুতেই শনাক্তকরণ ও চিকিত্সাব্যবস্থা নিয়ে জানতে হবে ও মেনে চলতে হবে। ব্যক্তিগত ইচ্ছাশক্তিকে শক্ত করে সমাজকে বদলানোর চেষ্টায় যার যার অবস্থান থেকে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে ক্যানসারের বিরুদ্ধে, ঘাতক এ রোগকে বিলুপ্ত করতে হবে।

সংখ্যার দিক থেকে আমাদের দেশে মেয়েদের জরায়ু মুখের ক্যানসার ও স্তন ক্যানসারের পরেই মুখগহ্বরের ক্যানসারের রোগী বেশি দেখা যায়। জিহব, তালু, জিহবার নিচে, গালের ভেতরের অংশ, ঠোঁট বা মুখের মধ্যে যে কোনো স্থানে বেড়ে ওঠতে পারে ক্যানসার। মুখের ক্যানসার হঠাত্ করে পূর্ণতা পাই না, শুরুতে অবহেলা, কুসংস্কার, অশিক্ষা, দরিদ্র্যতা, অপচিকিত্সাসহ নানা কারণে এ রোগ জটিল হয়ে ওঠে। ক্যানসার ছড়ানোর ওপর ভিত্তি করে একে চারটি স্তরে ভাগ করা হয়, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে চিকিত্সা প্রায় শতভাগ সফল হয়।

ক্যানসার হচ্ছে শরীরের কোনো কোষের অনিয়ন্ত্রিত ও অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। মুখের মধ্যে নানা ধরনের ক্ষত হতে পারে, তবে যদি কোনো ক্ষত বা ঘা দুই সপ্তাহের বেশি রয়ে যায়, তবে অবশ্যই কোনো হাতুড়ে চিকিত্সকের অপচিকিত্সার শিকার না হয়ে ন্যূনতম বিডিএস ডিগ্রিধারী ডেন্টাল চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে হবে। অনেক সময় ক্ষতটি কোনো ব্যথা ও কষ্ট বা অন্যকোনো উপস্বর্গ ছাড়াই বাড়তে থাকে, তাই সমগ্র বিশ্বের চিকিত্সকরা ছয় মাস পরপর ডেন্টাল চিকিত্সকের পরামর্শ নিতে জোরালো তাগিদ দেয়। নিজের মুখের অভ্যন্তরে নিজে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বড় হাঁ করে দেখতে হবে কোথাও কোনো অস্বাভাবিক রং, ঘাঁ, গোটা বা ক্ষত দেখা যায় কি না।

সঠিক নিয়মে নিয়মিত মুখের স্বাস্থ্য পরিচর্যা নিশ্চিত রাখতে হবে, পাশাপাশি তাজা ফরমালিনমুক্ত মৌসুমি ফলমূল, শাকসবজি, দুধ, টক দই, ছোট মাছ, আঁশযুক্ত খাবারসহ সুষম খাবারে মনোযোগী হতে হবে। চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাদ্য কমাতে হবে। পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান ও রক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখতে ব্যায়াম করতে হবে।

করোনার প্রকোপকালে ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার কোনো বিকল্প নেই, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়ার কারণে বড় ধরনের কোভিড জটিলতা হতে পারে। কোভিড প্রতিরোধে প্রতিটি স্তর হতে হবে সুরক্ষিত।

চিকিত্সা :ক্যানসার নিঃসন্দেহে জটিল রোগ, তবে শুরুতে রোগ শনাক্ত হলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। চিকিত্সা না পেলে ক্যানসার বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বাড়তে থাকে আর ছড়িয়ে পড়তে থাকে অন্যান্য স্থানে। ক্যানসার সহজেই শনাক্ত করা যায় বায়োপসির মাধ্যমে। রাজধানীর ঢাকা ডেন্টাল কলেজ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় ক্যানসার ইনস্টিটিউটসহ দেশের জেলা পর্যায়ের হাসপাতাল, করপোরেট হাসপাতালসহ অসংখ্য প্রাইভেট ডেন্টাল ক্লিনিকের সাহায্যে মুখের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতর ধরন নিশ্চিত করার সুযোগ আছে। সার্জারি, রেডিও থেরাপি বা কেমো থেরাপির মাধ্যমে রোগের ব্যাপ্তির ওপর নির্ভর করে চিকিত্সা দেওয়া হয়। যত দ্রুত সম্ভব রোগ শনাক্ত ও চিকিত্সাব্যবস্থায় গেলে শঙ্কামুক্ত হওয়া সম্ভব, তবে অতিরিক্ত অবহেলা অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দেশের অভিজ্ঞ ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জনরা এখন মুখের ক্যানসার চিকিত্সায় নির্ভরযোগ্য ভূমিকা রাখছেন।

n লেখক :রাজ ডেন্টাল সেন্টার,

কলাবাগান, ঢাকা