স্থগিত চাকরির পরীক্ষা ও ভোগান্তি

নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত, হাজারো বেকারের ভাগ্যের চাকা স্থগিত। পত্রিকায় বা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে চাকরির পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা আসে। ঘোষণা করা হয় পরবর্তী সময়ে পরীক্ষার তারিখ জানানো হবে। কিন্তু অনেক চাকরির পরীক্ষার নতুন দিন আর আসে না। ২০১৬ সালে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে সহকারী শিক্ষক, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ও হিসাব সহকারী পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। ২০১৮ সালের শেষের দিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ও হিসাব সহকারী পদে নিয়োগ পরীক্ষা আজো অনুষ্ঠিত হয়নি। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সমবায় অধিদপ্তরের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে লিখিত পরীক্ষার জন্য প্রবেশপত্র ইস্যু করা হয়। পরীক্ষার দিন নির্ধারণ করা হয় ২০১৯ সালের ১১ অক্টোবর। অনেকেই এই অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে পরীক্ষা স্থগিতের নোটিশ পায় আর অনেকে পরীক্ষা দিতে ঢাকা গিয়ে জানতে পারে পরীক্ষা স্থগিত। এখনো পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। ২০১৬ সালে বেনাপোল কাস্টমসের বিভিন্ন পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। ২০১৯ সালের ২৯ নভেম্বর লিখিত পরীক্ষার দিন নির্ধারণ করে প্রবেশপত্র ইস্যু করা হয়। সিপাহী পদের জন্য লিখিত পরীক্ষার আগে শারীরিক যোগ্যতা পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার দু দিন আগে অনিবার্য কারণবশত লিখিত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। জানানো হয় পরবর্তী সময়ে পরীক্ষার তারিখ জানানো হবে। আজো পরবর্তি তারিখ আসেনি। বয়স শেষ হয়ে এর মধ্যে অনেকেই হয়েছেন মেয়াদ উত্তীর্ণ বেকার।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর চাকরিপ্রার্থীরা নিয়োগের ক্ষেত্রে আধুনিকায়নের সুবিধা পাচ্ছে।  অনেক মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের চাকরির আবেদন অনলাইনে করতে হয়। এতে করে চাকরি পরীক্ষার নির্ধারিত দিনের আগে চাকরিপ্রার্থীরা মোবাইলফোনে এসএমএস-এর মাধ্যমে পরীক্ষার দিন তারিখ জানতে পারলেও অনেক অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনো সেই আগের নিয়মেই সম্পন্ন হয়ে থাকে। দেখা যায় অনেক চাকরি প্রার্থীর ডাক যোগাযোগের ঠিকানায় প্রবেশপত্র পৌঁছাতে অনেক দেরি হয়। এমনকি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর প্রবেশপত্র পাওয়ার নজিরও কম নয়।

যা হোক, স্থগিতকৃত নিয়োগ পরীক্ষার নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন ও ডাকযোগে ইস্যুকৃত প্রবেশপত্রের ক্ষেত্রে প্রবেশপত্র ইস্যু করার তারিখ থেকে অতিরিক্ত সময় নিয়ে চাকরির পরীক্ষা গ্রহণ করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

এম এ মামুন

খড়কি, সদর, যশোর