এক বছর ধরে কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ, দুর্ভোগে রোগীরা

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার রাধাকানাই ইউনিয়নের রঘুনাথপুর বাজার সংলগ্ন ২নং ওয়ার্ডের কমিউনিটি ক্লিনিকে এক বছরের বেশি সময় ধরে তালা ঝুলছে। কমিউনিটি অর্গানাইজার আল আমিন মানুষের টাকা আত্মসাৎ করে পলাতক থাকায় এ অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এতে দুর্ভোগে পড়ছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। 

ক্লিনিক বন্ধ করে লাপাত্তা দিলেও তিনি নিয়মিত বেতনভাতা উত্তোলন করছেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বিধান চন্দ্র দেবনাথ। প্রতিদিন রোগীরা ওষুধের জন্য কমিউনিটি ক্লিনিকে আসলে বলা হয় সরকার এখন ওষুধ দেয় না, ওষুধ নেই। 

উপজেলার রঘুনাথপুর বাজার সংলগ্ন কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি অর্গানাইজার হিসাবে দায়িত্ব পালন করতেন আল আমিন। ব্যবসা করার নাম করে মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে এক বছরের বেশি সময় ধরে পলাতক রয়েছে। এক বছর ধরে কমিউনিটি ক্লিনিকের ঝাড়ুদার উম্মে কুলসুম কমিউনিটি ক্লিনিক ঝাড়ু দেন আর বন্ধ করেন। 

উম্মে কুলসুম জানান, এক বছর ধরে আল আমিন মানুষের কাছ থেকে টাকা মেরে উধাও হয়ে গেছেন। প্রথম দিকে মাঝে মধ্যে আসতো এখন আসেই না। আমি ক্লিনিক খুলে ঝাড়ু দিয়ে আবার বন্ধ করে দেই। 

ক্লিনিক থেকে সেবা নিতে আসা শামছুন্নাহার জানান, এক বছরের বেশি সময় ধরে ক্লিনিকটি বন্ধ। প্রতিদিন গ্রামের দূরদূরান্ত থেকে রোগীরা ওষুধের জন্য ক্লিনিকে আসে। ওষুধ না পেয়ে তারা ফিরে যায়। আমার বাড়িতে ঠাণ্ডা-জ্বরে আক্রান্ত রোগী আছে। আমি দুই দিন ধরে ওষুধ নেওয়ার জন্য ঘুরছি। কিন্তু ক্লিনিক তালাবদ্ধ থাকায় ওষুধ নিতে পারছি না। এর আগেও ওষুধ নেওয়ার জন্য এসে ছিলাম। তখন বলেছিল সরকার নাকি এখন ওষুধ দেয় না। এ কারণে ওষুধ নাই। 

আ. কাদের নামের অপর একজন জানান, করোনার কারণে আমি ঢাকা থেকে বাড়িতে এসেছি এক বছর হয়েছে। আমি এক বছর ধরে ক্লিনিকটি বন্ধই দেখি। মানুষ সেবা নিতে এসে ক্লিনিক বন্ধ দেখে আবার ফিরে যায়। মাঝে মধ্যে আল আমিনের পরিবর্তে যারা বসেন তারা মানুষকে ওষুধ দেন না। সেবা গ্রহীতাদের তারা বলে দেন এখন নাকি সরকার ওষুধ দেন না। 

কমিউনিটি ক্লিনিকে সপ্তাহে দুইদিন বসেন স্বাস্থ্য সহকারী নজরুল ইসলাম। তিনি জানান, আমরা এক মাস হাম রুবেলার টিকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি বাড়ি ঘুরছি। এ কারণে একমাস ধরে ক্লিনিকে আর বসা হয় না। কমিউনিটি অর্গানাইজার আল আমিন পারিবারিক ঝামেলায় এক বছর ধরে ক্লিনিকে আসে না। এ কারণে বন্ধ থাকে ক্লিনিকটি। 

ইউনিয়ন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক জীবন নেছা সুলতানা বলেন, ‘কমিউনিটি ক্লিনিকটি আমি যেদিন পরিদর্শন করতে যাই সে দিন কমিউনিটি অর্গানাজাইরকে না পেলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কি ব্যবস্থা নিছে সেটা তারা ভালো বলতে পারবেন।’

স্বাস্থ্য পরিদর্শক আ. মান্নান জানান, আমি বিষয়টি নিয়ে বিব্রত। আপনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেন। 

বিষয়টি নিয়ে কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি অর্গানাইজার আল আমিনের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তার তার মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়।  

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বিধান চন্দ্র দেবনাথ জানান, ঐ কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি অর্গানাইজার আল আমিন নিয়মিতভাবে বেতনভাতা উত্তোলন করছেন। 

এক বছর ধরে ক্লিনিক বন্ধ থাকার পরও কিভাবে নিয়মিত বেতনভাতা উত্তোলন করেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মাঝে মধ্যে বন্ধ থাকার বিষয়টি তিনি জানেন।’ এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলেও তিনি জানান। 

ইত্তেফাক/এএএম