হংকংয়ে কঠোর জাতীয় সুরক্ষা আইন আরোপ করায় চীনকে তীব্র সমালোচনা করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন। সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এই শহরটিকে হেয় করার জন্য কাজ করছে চীন ।
এমএসএনবিসি'র রিপোর্টার আন্ড্রেয়া মিশেলের সাথে এক সাক্ষাত্কারে ব্লিংকেন বলেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উচিত হংকংয়ের ক্র্যাকডাউন থেকে পালিয়ে আসা লোকদের আশ্রয় দেওয়া। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত অনুলিপি অনুযায়ী, হংকংয়ের রাজনৈতিক দমন থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দরজা খোলার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যে যোগদান করা উচিত কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমি বিশ্বাস করি যে আমাদের তা উচিত ছিল।"
তিনি আরো বলেন, হংকংয়ের বাসিন্দারা যদি চীনা প্রশাসন দ্বারা দমন-পীড়নের শিকার হয় তবে তাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য আমাদের কিছু করা উচিত, এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি বলে দাবী করেছিলেন তিনি তার উত্তরে বলেন, বেইজিংয়ের তুলনায় ওয়াশিংটনের শক্তিশালী জোট রয়েছে।
জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক আইনের খসড়া অনুযায়ী, বেইজিং হংকংয়ের বিদ্যমান স্বাধীন আইনি ব্যবস্থাকে অগ্রাহ্য বা বাতিল করতে পারবে। এ ছাড়া নতুন নিরাপত্তা আইন কার্যকর করতে চীনের মূল ভূখণ্ডের কর্মকর্তারা হংকংয়ে একটি জাতীয় নিরাপত্তা অফিস প্রতিষ্ঠা করবেন। বিশ্লেষকেরা বলেন, এটি হলে এই নগরীর স্বায়ত্তশাসন আরও খর্ব হবে। এই আইন হংকঙের বিশেষ মর্যাদা বদল করে কমাতে চলেছে সেখানের বাসিন্দাদের স্বাধীনতার পারদ, মতামত সমালোচকদের।
বেইজিং বলছে, এই নতুন আইন হংকংয়ে চলমান গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনের ফল, বিরুদ্ধ মত, সন্ত্রাসবাদও বিচ্ছিন্নতাবাদ রুখতেই পাস করা হয়েছে এই বিলে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র সচিব ডোমিনিক র্যাব বলেন, হংকংয়ে জাতীয় সুরক্ষা আইন কার্যকর করা উচিত। হংকংয়ে এমন নিপীড়ন আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী।
ইত্তেফাক/এএইচপি