মিয়ানমারে ক্যু ব্যর্থ করার আহ্বান জাতিসংঘের

নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের পর মিয়ানমারে প্রতিবাদ বিক্ষোভ বাড়ছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের সময় তিন জনকে আটক করা হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ অন্যান্য মেসেজিং সার্ভিস বন্ধ করে দিয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। দেশটির যোগাযোগ ও তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশটিতে ফেসবুক বন্ধ থাকবে। অন্যদিকে মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান ব্যর্থ করে দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের ফল উলটে দেওয়াটা অগ্রহণযোগ্য এবং সেনা নেতৃত্বকে বোঝাতে হবে যে, একটি দেশকে শাসন করার এটা কোনো পদ্ধতি নয়।

গত সোমবার মিয়ানমারে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এনএলডি পার্টির নেত্রী অং সান সু চিসহ শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার করে ক্ষমতা দখল করেছে সেনাবাহিনী। ইতিমধ্যে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। অভ্যুত্থানের নেতা ও সেনাপ্রধান মিন অং লাইং ১১ সদস্যের জান্তা গঠন করেছেন। সু চির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। মামলার নথি অনুযায়ী, সু চির বাসভবনে পাওয়া বেশ কিছু ওয়াকিটকি পাওয়া গেছে, যেগুলো অবৈধভাবে আমদানি করা হয়েছে। এই অভিযোগে সু চির সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড      হতে পারে বলে গার্ডিয়ান জানিয়েছে।

এদিকে মিয়ানমারে অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে। বিক্ষিপ্তভাবে প্রতিবাদ বিক্ষোভ হচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাতেও ইয়াঙ্গুন ও অন্যান্য শহরের বাসিন্দারা বাড়িতেই হাঁড়ি-পাতিল বাজিয়ে সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। অনেকেই রাস্তায় নেমে গাড়ির হর্ন বাজিয়ে প্রতিবাদে অংশ নিয়েছেন। মিয়ানমারের মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে এ সংক্রান্ত খবর না আসলেও ফেসবুকে ব্যাপকভাবে প্রতিবাদের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর নজরে আসে। এছাড়াও, সেনা অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে মিয়ানমারের ৩০টি শহরের ৭০টি হাসপাতালের চিকিত্সক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

এরপরই অনলাইনে বিক্ষোভকারীদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে ফেসবুকসহ ম্যাসেজিং অ্যাপ বন্ধ করা হয়েছে। গতকাল দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয় এক চিঠিতে জানায়, বর্তমানে যারা দেশের স্থিতিশীলতা চায় না, তারাই ফেক নিউজ ও ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে এবং ফেসবুক ব্যবহার করে মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে। মিয়ানমারের ৫ কোটি ৪০ লাখ মানুষের অর্ধেক ফেসবুক ব্যবহার করে। মানবাধিকার কর্মীরা অভ্যুত্থান বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ করতে এই পেজ খুলেছে। এনএলডির কমপক্ষে ৭০ জন আইনপ্রণেতা নেপিডোর সরকারি অতিথি ভবন ছেড়ে যেতে অস্বীকার করেছেন। তারা নতুন পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরুর দাবি জানিয়েছে।

এদিকে সেনা অভ্যুত্থান ব্যর্থ করে দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেস। তিনি মিয়ানমারে সাংবিধানিক নীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সম্ভাব্য একটি বিবৃতির বিষয়ে আলোচনা করছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে যে, সেনা অভ্যুত্থানের নিন্দা করা হয় এমন যে কোনো বিবৃতি আটকে দেবে চীন। মহাসচিব আশা করছেন যে, নিরাপত্তা পরিষদে এ বিষয়ে একটি মতৈক্য হবে। যাতে করে মিয়ানমারের ওপর পর্যাপ্ত চাপ প্রয়োগ করে এই অভ্যুত্থানকে ব্যর্থ করা যায়।